এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর স্ত্রী নাসরীন ইসলাম, মেয়ে আনিকা ইসলাম, ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মোট ৫২টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী ও ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুদকের পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। গতকাল দুদকের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
নাসা গ্রুপের নজরুলের আবেদনে বলা হয়, এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানকালে তাঁর নিজ নামে, স্ত্রী নাসরীন ইসলাম, মেয়ে আনিকা ইসলাম ও ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। হিসাব খোলার সময় থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, যা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের নামীয় ব্যাংক হিসাবগুলোতে রক্ষিত অর্থ উত্তোলন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা আছে। এমতাবস্থায় ৫২টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দানের প্রার্থনা করছি।
সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আবেদনে বলা হয়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তিন সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তিনি দেশ থেকে পলায়ন করলে অভিযোগ মামলার গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র বিনষ্টসহ অনুসন্ধান কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।