আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নামে আইএফআইসি ব্যাংকে ৩৫ কোটি ২১ লাখ টাকার এফডিআরের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি বলছে, বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর ফান্ডের টাকা সিআরআইতে নিয়ে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। এমনকি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সাংবাদিকদের মাসোয়ারা দেওয়া হতো।
গতকাল বিকাল পৌনে ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আইএফআইসি ব্যাংকে সিআরআই নামে প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ কোটি ২১ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকে লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। আর ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সংগ্রহ করা নথিপত্র এবং ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবে এনফোর্সমেন্ট টিম। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইর পরিচালনা পর্ষদ বিভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দেখা যায়- সিআরআই নামে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (জয়), ভাইস চেয়ারম্যান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং নসরুল হামিদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযানকালে সরেজমিনে গেলে কার্যালয়টি বন্ধ পায় এনফোর্সমেন্ট টিম।
অভিযানকালে সিআরআই নামে প্রতিষ্ঠানের যেসব ব্যাংকে হিসাব চালু ছিল সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর আগে গতকাল সকালে সিআরআই নামে কোনো অফিস ধানমন্ডিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। দুপুরে ধানমন্ডিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যয় বা ক্ষতি সাধন করছেন কিনা সেটার যাচাই করার জন্য এসেছি। ধানমন্ডি কয়েকটা জায়গা ঘুরেও সিআরআইর অফিস খুঁজে পাইনি। আমরা প্রাথমিকভাবে তথ্যগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানে আসছি। ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে আমরা সেটা জেনেছি। সেই তথ্য যাচাই করতে হলে আমাদের রেকর্ডগুলো সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান। সিআরআই নন প্রফিট অরগানাইজেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আমরা যে নিয়মিত অভিযান করি সেটারই একটি অংশ।