ফেসবুকে পরিচয়। একপর্যায়ে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। কিছুদিন পর রাজধানীর মহাখালীতে কথিত সেই প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায় দক্ষিণখানের সেই স্কুলছাত্রী। ফাঁদে ফেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ওই এলাকারই একটি ফ্ল্যাটে। সেখানেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয় হতভাগা সেই কিশোরীকে। বস্তাবন্দি করে লাশ ফেলা হয় হাতিরঝিলে। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে কথাগুলো বলছিলেন উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার রওনক জাহান। তিনি বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক হলো- রবিন হোসেন (৩২) ও মো. রাব্বী মৃধা (২৬)। রবিন পেশায় গাড়িচালক। রাব্বি মৃধার নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই।
ডিসি রওনক জাহান বলেন, নিহত কিশোরী দক্ষিণখানের একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। গত ১৬ জানুয়ারি কেনাকাটা করার কথা বলে বাসা থেকেই নিখোঁজ ছিল। এর তিন দিন পর ১৯ জানুয়ারি দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। ২৭ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে কিশোরীর মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ৩০ জানুয়ারি রবিন নামের এক যুবককে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাব্বি মৃধা নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে রওনক জাহান বলেন, আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার দুই যুবককে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তারা এরই মধ্যে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানিয়েছে। বলেছে, পাঁচজন মিলে তারা ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে লাশ বস্তায় ভরা হয়। ঘটনার দিন মধ্যরাতে মহাখালী থেকে রিকশায় করে হাতিরঝিলের রাস্তার ঢালে ফেলে দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রবিবার হতভাগা ওই কিশোরীর লাশ হাতিরঝিল থেকে উদ্ধার করা হয়। সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকালই ওই কিশোরীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রবিন ও রাব্বি মৃধা।