দখল-দূষণে মৃতপ্রায় রাজধানীর খালগুলোর মধ্যে থেকে ছয়টি খালকে দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজ শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। খালগুলো হলো- বাউনিয়া খাল, রূপনগর খাল, বেগুনবাড়ি খাল, মান্ডা খাল, কালুনগর খাল ও কড়াইল লেক। বর্ষার আগেই খালগুলোতে ফিরিয়ে আনা হবে পানিপ্রবাহ। এ ছাড়া শিগগির আরও ১৩টি খাল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে।
খালকেন্দ্রিক ব্লু নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে চার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গতকাল রাজধানীর বাউনিয়ায় (পুলিশ স্টাফ কলেজের পেছনে) খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মন্ত্রণালয়গুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী বর্ষার আগেই রাজধানীর ছয়টি খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা হবে। এছাড়া আরও ১৩টি খাল উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হবে। সব মিলে চলতি বছরই প্রাণ ফিরে পাবে রাজধানীর ১৯টি খাল। এ কার্যক্রমে এবার নগরবাসীকে যুক্ত করা হবে। খাল উদ্ধারে যে কোনো বাধা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করব। তিনি বলেন, খালে যাতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে এ জন্য স্থানীয়দের দিয়ে আমরা কমিটি করে দেব। দুই কিলোমিটার পর পর কমিটি থাকবে, তারা নজরদারি করবে। তিনি বলেন, আমরা ৩-৪টি মন্ত্রণালয় বসে কীভাবে বর্ষার আগে খালগুলোতে প্রবাহ ফেরাতে পারি সে বিষয়ে কাজ করছি। প্রথমে খনন করব, এরপর ধাপে ধাপে এগোব। ১৯টি খালকেন্দ্রিক একটা মাস্টার প্ল্যান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজউক, ঢাকা ওয়াসা, আরডিআরসি, বাপা, গ্রিন ভয়েস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অংশগ্রহণে খাল দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।