শীত উপেক্ষা করে বগুড়া জেলাজুড়ে বোরো ধানের চারা রোপণের ধুম পড়েছে। যেসব জমিতে আমন ও আগাম আলু চাষ হয়েছিল সেগুলোতে বোরো চাষ শুরু করেছেন কৃষক। জমি তৈরি ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এর মধ্যে অনেক এলাকায় নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। সার ও সেচ কাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেলে ইরি-বোরোতে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত রোপণ হয়েছে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। জেলায় এবার আটাশ, ঊনত্রিশ, ব্রি-৮১, ব্রি-৮৮, ব্রি-৮৯, ব্রি-১০০, কাটারিভোগ, কাজললতা, শুভলতা, জিরাশাইল ও হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করছেন কৃষক। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জানুয়ারি থেকে স্বল্প পরিসরে বোরো চাষ শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে পুরোদমে চলবে বোরো চাষ। মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত চারা রোপণ চলবে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে। জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। এ ছাড়া ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে। জানা যায়, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়ে থাকে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ইতোমধ্যে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণের ধুম লেগেছে। কৃষকরা একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাদের জমিতে বোরো চাষাবাদ করছেন। শীত উপেক্ষা করে চলছে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ। এর মধ্যে অনেক এলাকায় নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। জমি তৈরি থেকে শুরু করে চারা ওঠানোর কাজেও নারীরা ব্যাপকভাবে মাঠ মাতিয়েছেন। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর আবাদে খরচ বেশি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলেন, শ্রমিক খরচসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বেশি। শাজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর এলাকার কৃষক নাজেম উদ্দিন জানান, এ বছর ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। গত বছরের চেয়ে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেছে। ফলে চারা রোপণে খরচ বেশি হচ্ছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে। দামও ভালো পাব। কৃষকরা জানান, সার, তেল এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় চিন্তিত তারা। বোরো ধানের ভরা মৌসুমে সার ও সেচ কাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে ইরি-বোরোতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।