চালের দাম কমানোর জন্য সরকারের নানা ধরনের উদ্যোগের পরও মিলছে না সুফল। ভরা মৌসুমেও চালের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। চালের দাম কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চালের ওপর থেকে সব আমদানি ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে মাস তিনেক আগে। এরপর বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানিও করা হয়েছে। আরও লাখ লাখ টন চাল আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে। তার পরও বাজারে এর কোনো প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে না। এমনকি ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পরও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি চালের দাম। টিসিবির তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহেও চালের দাম বেড়েছে।
রাজধানীতে বিভিন্ন বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি সরু বা মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়, নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকায়। মাসখানেক আগেও মিনিকেট ছিল ৭২-৮০ এবং নাজিরশাইল ৮০-৮৫ টাকা। মাঝারি বা ব্রি-২৮ ও পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৬ টাকায়। এ ছাড়া মোটা বা গুটি স্বর্ণা জাতের চালের কেজি ৬০-৬২ টাকা।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্যমতে, মোটা চাল বা স্বর্ণা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৮ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এ চাল ছিল ৫২-৫৮ টাকা। আর গত বছর এর দাম ছিল ৫০-৫৪ টাকা।
পাইজাম বা আটাশ চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে ৫৬-৬৩ টাকায়। গত বছর এ চাল বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৬ টাকায়। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮৫ টাকায়। এক মাস আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। গত বছর বিক্রি হয়েছে ৬২-৭৫ টাকায়।
খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন ধরনের চাল আমদানি করছে। বিভিন্ন স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে ইতোমধ্যে চাল দেশের বাজারে এসেও পৌঁছেছে। এ ছাড়া পাকিস্তান থেকেও চাল আমদানি হওয়ার কথা রয়েছে। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘আমদানি স্থায়ী কোনো সমাধান হতে পারে না। শুধু আমদানির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে না। আমরা মনে করি সরকারের এখানে দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিন্ডিকেট শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার কোনো কথা না। যার চালের ব্যবসা করার কথা না তিনিও চাল কিনে গুদামে মজুত করেছেন। সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও কারসাজির সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। এসব কারণেই চালের দাম কমছে না।’