ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিনের মাথায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সোমবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদের আদালত শুনানি শেষে জামিনের আদেশ দেন। এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি। গতকাল সকাল ১০টার দিকে পরীমণি আদালতে আসেন। ১০টা ১৭ মিনিটের দিকে আদালতের বিচারকাজ শুরু হয়। এ সময় এজলাসের পেছনে একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন পরীমণি। তাঁকে আসামিদের কাঠগড়ায় যেতে বলেন আদালত। পরীমণির পক্ষে অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ছিল। পরীমণি অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি। চার্জ গঠন হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আজ আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি। তাঁর জামিনের প্রার্থনা করছি।’ এরপর বিচারক বলেন, আশা করছি, সবাই কোর্টের ডিগনিটি (সম্মান) রক্ষা করবেন। কোর্টকে বিতর্কিত করবেন না। মামলাটা জামিনযোগ্য ধারার। আসলেই জামিন পাবেন বিষয়টা এমন নয়। বিচারাধীন বিষয়ে এভাবে আগে কথা বলাটা কতটুকু যৌক্তিক? পরীমণির আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বিচারক বলেন, আপনি কোর্ট অফিসার। এ বিষয়গুলো ভবিষ্যতে খেয়াল রাখবেন। পরে আদালত ১ হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিনের আদেশ দেন।
জামিন পাওয়ার পর পরীমণি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা সবাই তো জানেন আমি একটা মামলা করেছিলাম। এর পরে তিনি (ব্যবসায়ী নাসির) একটা মামলা করেন। যে মামলার জন্য গতকাল আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আমার খুব বিশ্বাস ছিল আমি আজ জামিন নিতে আসব এবং জামিন পেয়ে যাব। আপনারা সাহস জুগিয়েছেন। আমি জামিন পেয়েছি। আপনাদের এত ভালোবাসা নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আমি সঠিক বিচার পাব। আমি এখান থেকে আশাহত হতে চাই না। আমি চাই শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হোক।’ এ সময় পরীমণি চলে যেতে চাইলে উপস্থিত জনতার ভিড়ের মুখে পড়েন। তখন তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, ‘নেন নেন বেশি করে নেন (ভিডিও)। আপনাদের আজ খুশি করে যাব।’ গত বছর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন মর্মে চার্জশিট দাখিল করেন।