বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ফিটনেস, লাইসেন্স, নবায়নসহ গত ছয় মাসে মোট রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৭২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। রাজস্ব আদায়ে সফলতা দেখাল বিআরটিএ। যদিও এই সেবাদাতা সংস্থাটির উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অংশীজনের সচেতনতা বৃদ্ধি, যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল, টেকসই, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, পরিবেশবান্ধব আধুনিক সড়ক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু বিগত সময়ে এসব বিষয়ে কোনো নজরই ছিল না সংস্থাটির।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ছয় মাসে (ডিসেম্বর পর্যন্ত) রাজস্ব আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৭২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ড থেকে আয় ৬৫ কোটি ৯৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ হাজার ২১৩ কোটি ৫৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ট্রাস্টি বোর্ডের আয় ১৪২ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যার পরিমাণ ৪ হাজার ৪২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৪ হাজার ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এসব আয় রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, নম্বরপ্লেট ও ডিআরসি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভ্যাট, এসডি, অন্যান্য এবং অগ্রিমবাবদ। প্রতি বছরই রাজস্ব আয় বাড়িয়েছে সংস্থাটি কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলার কোনো উদ্যোগই বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
যদিও বিআরটিএর কার্যক্রম অনুযায়ী ১৬টি কাজ করবে সংস্থাটি। এর মধ্যে যানবাহনের ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স নিশ্চিত করা, বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানো ও শ্রমিকদের মাদক গ্রহণ বন্ধ করা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা, সড়কের ত্রুটি দূর করা, অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করাসহ সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সব ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বিআরটিএর কাজ। কিন্তু বাস্তবে সংস্থাটি মাঠে নিষ্কিয়। ফলে বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিআরটিএ ছোট যানবহান বেশি নিবন্ধন দিচ্ছেন যেটা গণপরিবহন নীতির পরিপন্থি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে গণপরিবহনকে উৎসাহিত করা হয়। আর ছোট যানবাহনকে নিরুৎসাহ করা হয়। অথচ আমাদের ছোট একটি দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৬০ লাখ হয়ে গেছে। আর প্রাইভেটকারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আমরা এখানে থামব কি না, এই ধরনের নীতি বা সিদ্ধান্ত বিআরটিএ দিচ্ছে না। এসব বিষয়ে সংস্থাটি সুস্পষ্ট রূপরেখা
দিচ্ছে না। ফলে যানজটও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, রোড সেফটি মূলত বিআরটিএর কাজ। এই ধরনের কাজে কোনো গবেষণা নেই সংস্থাটির। লিফলেট বিতরণ করা কি বিআরটিএর কাজ! এটা কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। কোনো এনজিও করলেও সেটা মেনে নেওয়া যেত। তাদের কাজ হতে হবে গঠনতান্ত্রিক। যার প্রভাব পড়বে সমাজে। অথচ প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে মানুষ। তিনি বলেন, রাজস্বের বাইরে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্থাটির সুদূরপ্রসারি কোনো লক্ষ্যমাত্রাও দেখি না। যে কার্যক্রমগুলো করছে সেটা সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ। শৃঙ্খলায় আনতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। কিন্তু মোবাইল কোর্টের অর্জন কী? গত এক বছরে ১০টি রুটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলাম। মোবাইল কোর্টের আগের চিত্র ও বর্তমান চিত্র দেন। এরকম রিপোর্ট জনগণের কাছে উপস্থাপন করেন। সুতরাং আমরা মনে করি বিআরটিএ এখন একটি রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটির যে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্টরা। যদি বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে যে পরিমাণ জনবলের প্রয়োজন তার অর্ধেক নেই বিআরটিএর। একই সঙ্গে অভিযানে নামলে হলে পুলিশ দরকার। সব সময় পুলিশ পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে আমাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর সংকট রয়েছে। এ সংকটগুলো দূর করা গেলে পরিবহনের শৃঙ্খলা আনা সহজ হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন বলেন, শুধু রাজস্ব আদায় আমাদের কাজ নয়। আমাদের সামগ্রিক কার্যক্রম বৃদ্ধিতে রাজস্ব আয় বাড়ে। আমরা সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কাজ করছি।