চলতি শীত মৌসুমে সুন্দরবনে হঠাৎ করেই হরিণ শিকার প্রবণতা বেড়েছে। বনের ভিতরে বেশির ভাগ জায়গা শুষ্ক থাকায় শিকারিরা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করছে। মাঝেমধ্যে অভিযানে হরিণের মাংস, মাথা, চামড়া ও ফাঁদ জব্দ হলেও চোরাই শিকার বন্ধ হয়নি।
তবে বন কর্মকর্তারা বলছেন, হরিণ শিকারিদের প্রতিহত করতে বনের ভিতরে ফুট প্যাট্রোলিং (টহল) বাড়ানো হয়েছে। বনসংলগ্ন এলাকায় জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
জানা যায়, সর্বশেষ ১৯ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনে ২৫ কেজি হরিণের মাংস ও হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করে বন বিভাগ। সুন্দরবন চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র দাস জানান, জোংড়া টহল ক্যাম্পের পেছনে গহিন বনে অভিযান চালালে চোরা শিকারিরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে হরিণের মাথা-পাসহ ২৫ কেজি মাংস ও প্রায় ৫০০ মিটার ফাঁদ জব্দ করা হয়। ১৬ জানুয়ারি খুলনার কয়রা কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা সুন্দরবনে সত্যপীরের খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে নৌকা থেকে তিনটি বস্তায় ৮০ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করে।
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৩২ জন হরিণ শিকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হয়। উদ্ধার করা হয় ২৫৫ কেজি হরিণের মাংস ও ৩৪৩৭ মিটার ফাঁদ। বন কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনে মাছ ধরার জালের সঙ্গে কৌশলে দড়ি নিয়ে যায় শিকারিরা। বনের ভিতর হরিণ ধরার ফাঁদ তৈরি করে। তারপর হরিণের যাতায়াতের পথে ফাঁদ পেতে রাখে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, শীতে সুন্দরবনে অনেক এলাকা প্লাবিত হয় না। চোরা শিকারিরা ডিঙি নিয়ে সহজে বনে যায় ও সুযোগ বুঝে শিকার করে। তাদের প্রতিহত করতে বনকর্মীদের জঙ্গলের মধ্যে ফুট প্যাট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। হরিণ শিকারিদের বাড়ি গিয়েও উঠান বৈঠক করা হয়েছে। বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি ও সংবেদনশীল এলাকায় বিশেষ টহল টিম করা হয়েছে।