রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন থাকা ৬৪টি পুকুর দখলমুক্ত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩৫টি উচ্ছেদ ও সংস্কার করবে সংস্থাটি। যদিও এসব পুকুর ‘কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। নামে পুকুর হলেও দখল-দূষণে অনেকগুলো অস্তিত্ব হারিয়ে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে কোনোটি ভরাট করে গড়ে উঠেছে স্কুল, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং খেলার মাঠ। কোনোটি আবার আংশিক দখল হয়ে গেছে। জানা গেছে, ঢাকা জেলা প্রশাসন ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগরীর ৫৮টি খাস ও ভিপি পুকুরের তালিকা হস্তান্তর করে রাজউককে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ৩টি পুকুরের মালিকানা এবং সাভার পৌরসভা ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর ৩টি পুকুরের মালিকানা হস্তান্তর করে রাজউককে। সব মিলিয়ে রাজউকের আওতাধীন পুকুরের সংখ্যা ৬৪টি। রাজউক তালিকা পাওয়ার পর পুকুরগুলো উচ্ছেদ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এরই মধ্যে কয়েক দফা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ পরিবর্তন হয়েছে। সবশেষ ৪ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগামী এপ্রিল মাস থেকে পুকুরগুলোর দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে যেসব পুকুর ভরাট হয়েছে সেগুলো খেলার মাঠ হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আর যেগুলো পুকুর বা জলাশয় হিসেবে রয়েছে, সেগুলোকে পুকুর হিসেবে তৈরি করা হবে। এসব পুকুর পাড়ে বসার স্থানসহ কিছু সংস্কার করা হবে। পুকুর হিসেবে যেগুলো থাকবে, সেগুলো এলাকার ওয়াটার পন্ড হিসেবে তৈরি করা হবে। এ ছাড়াও পুকুরপাড়ে ফায়ার হাইড্রেন্ট বসানো হবে। যেন কোথাও অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে পুকুর থেকে পানি ব্যবহার করতে পারে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের দাগ নং আরএস-৯৮৬৯, ৯৮৭০ ও ৯৮৭২ এবং এমএস ১০২০০ দাগ নম্বরের পুকুরটি এরই মধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। সেখানে রিকশা ও ভ্যানগাড়ির গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ‘ম’ খন্ড মৌজায় দাগ নং- আরএস-১৭০৩, ১৭০৪, ১৭০৫, ১৭২৬ ও ১৭২৭ নম্বর দাগের পুকুরটি ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বর্তমানে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে। রেকর্ডকৃত পুকুরের জায়গার পরিমাণ ২.৫০ একর। নারায়ণগঞ্জ মৌজায় আরএস-১১৪, ১১৫, ১১৬ ও ১১৭ দাগ নম্বরে জায়গাটি এক পাশে মাঠ ও ভবন রয়েছে। জমির পরিমাণ ২.৪০ একর। সূত্রাপুর মৌজায় সিটি জরিপের ২৯৮৪ দাগে পুকুরটি বর্তমানে মাঠ হিসেবে রয়েছে। ওয়ারী মৌজায় সিটি জরিপের ৪২৪৭ দাগ নম্বরের জায়গাটি পুকুর হিসেবে থাকলেও বর্তমানে কামরুননেছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে রয়েছে। মান্ডা মৌজায় সিটি জরিপের ১৮২৫ দাগের পুকুরটি বর্তমানে হলিক্রস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও খেলার মাঠ হিসেবে রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি নথিতে মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলে রয়েছে ১৩টি পুকুর। সেখানে গড়ে উঠেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর। এই ১৩টির মধ্যে যাত্রাবাড়ী মৌজায় সিটি জরিপ ৪৮০৮ দাগে ৮৫ শতাংশ ও সিটি জরিপ ২৭৫২ দাগে ১৪ শতাংশ, মান্ডায় ১৮২৫ দাগে ১৭ শতাংশ, দনিয়ায় ৭৭৮২ দাগে ২১ শতাংশ, কদমতলীতে ৯৩০১ দাগে ১ একর ১৭ শতাংশ ও ৯৭১৩ দাগে ৪ একর ৮৮ শতাংশ, ব্রাহ্মণ চিরণে ২৪৩৩ দাগে ২০ শতাংশ ও ২১১০ দাগে ২৬ শতাংশ, মতিঝিলে ২১০৮ দাগে ১ একর ৯২ শতাংশ, রাজারবাগে ৯০১৩ দাগে ৪৭ শতাংশ ও ৭৩৪০ দাগে ১১ শতাংশ এবং ১৯০৪ দাগে ২৬ শতাংশ পুকুর ছিল।
লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের কালুনগরে আরএস ৫৮০ দাগে ২০ কাঠা, আরএস ১৫৩০ দাগে ৬১ শতাংশ ও আরএস ১৬৬৫ দাগে ২০ শতাংশ, লালবাগে আরএস ৫৬৫৭ দাগে ১ একর ২০ শতাংশ এবং সিটি জরিপ ১৭১১ দাগে ৫৮ শতাংশ, হাজারীবাগ মৌজায় আরএস ৬০৩৪ দাগে একটি পুকুর, আমুলিয়ায় আরএস ৪১ দাগে ৪৩ শতাংশ, আরএস ৯৩ দাগে ৪৮ শতাংশ, উত্তরখানে সিটি জরিপ ৫৫১৬ দাগে ৩৫ শতাংশ পুকুর রয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর রাজস্ব সার্কেলে ৮টি পুকুর রয়েছে।