কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়, ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি, অভিযানসহ কোনো উদ্যোগই চালের বাড়তি দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না। আমদানি করা চালের জাহাজ একের পর এক বন্দরে ভিড়ছে। ভারত থেকে ইতোমধ্যে দুই চালান এসেছে দেশে। মিয়ানমার থেকেও চলতি সপ্তাহে চাল আসার কথা। চাল আমদানির জন্য ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গেও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে সরকার। সরকারের এত সব উদ্যোগের পরও চালের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ। আর চিকন চালের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। ক্যাব জানান, আগের সিন্ডিকেটের শাস্তি না হওয়ায় চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। গতকাল রাজধানীর অন্যতম পাইকারির বাবুবাজারের পাশে খুচরার রায় সাহেব বাজারে দেখা যায়, ৬৪ টাকার নিচে মিলছে না কোনো ধরনের চাল। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকা। জিরা নাজির ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, কাটারি নাজির ৮০, ২৯ নাজির ৬৫ টাকা, আটাশ চাল ৬৪ টাকা, রশিদ মিনিকেট ৮০, বাসমতি চাল ৯৫ টাকা, চিনিগুঁড়া চাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। রাজধানীর অন্যান্য বাজারেও এ রকম দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল।
তবে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, বর্তমানে মোটা চাল বা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়। এক বছর আগে এ সময়ে ছিল ৪৮ থেকে ৫২ টাকা। অর্থাৎ বছরে বেড়েছে ১২ শতাংশ। আর মাঝারি চাল বা আটাশ/পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। চিকন চাল বা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮৪ টাকা। এক বছর আগে এ চাল বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭৫ টাকায়। অর্থাৎ মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের দ্বিতীয় চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এরপর মিয়ানমার থেকে আমদানি করা চলতি সপ্তাহে বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গতকাল পাকিস্তানের সঙ্গে চাল আমদানির জন্য সমঝোতা চুক্তি করেছে সরকার।
এদিকে চালের বাড়তি দামে নাজেহাল অবস্থায় বেকায়দায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও। তারা জানান, চালের ভরা মৌসুমেও দাম এত পরিমাণ বাড়ার কথা না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজার লুট করছে। আর পকেট কাটছে ভোক্তার। বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা শুধু মুখে বললেই হবে না, মাঠ পর্যায়েও সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সিন্ডিকেটকে শাস্তির আওতায় আনেনি। এর ফলে সিন্ডিকেট বারবার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। ভরপুর এ সময়ে চালের দাম বাড়ার কোনো কথা না। যার চালের ব্যবসা করার কথা না সেও কিনে গুদামে মজুত করেছে। আমদানি স্থায়ী কোনো সমাধান হতে পারে না। এর মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে না।