সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, জনগণকে সরাসরি সেবা দেয় এমন কিছু প্রতিষ্ঠান ৫ আগস্টের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএ যদি তাদের কার্যক্রমে গতি না আনে, তবে এ প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে বিআরটিএকে নিয়মিত মনিটরিংয়ে রাখা হবে। গতকাল বিআরটিএ ভবন পরিদর্শনের পর সেখানকার কনফারেন্স রুমে রোড সেফটিবিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এক আলোচনা সভা শেষে বিআরটিএকে নিজেদের অবস্থার উন্নতির জন্য এক মাস সময় নির্ধারণ করে দেন সড়ক উপদেষ্টা, সেই সময় প্রায় শেষ। তবে এ সময়ের মধ্যে বিআরটিএ কিছুটা উন্নতি করতে পারলেও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে যেতে পারেনি বলে মনে করেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। বিআরটিএ সময়মতো লাইসেন্স দিতে না পারায় সড়ক পরিবহনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে সভায় অভিযোগ ওঠে। এ সময় উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের জন্য কাজ দেওয়া হবে। এ ছাড়া এখন থেকে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকেও লাইসেন্স প্রদানের কাজ দেওয়া হবে। ফাওজুল কবির খান বলেন, স্পষ্ট করে বলছি, সড়কে দুর্ঘটনার জন্য যদি কোনো সড়কে ত্রুটি দায়ী হয়, তবে সওজের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি দেখা যায় বাসচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, গাড়ির ফিটনেস সনদ নেই, তবে সে ক্ষেত্রে দায় বর্তাবে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের ওপর। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের গাফিলতি থাকলে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে বলে জানান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘গত বছর থেকে এ বছর (২০২৪ সালে) ১২ শতাংশ বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারিনি, এর জন্য দায় নিচ্ছি। অপরাধ স্বীকারের অংশ হিসেবে আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি।