ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার চিলেকোঠা থেকে আবদুল ওহাব মাতুব্বর (৭০) নামে বাড়ির কেয়ারটেকারের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলেখারকান্দা গ্রামের প্রয়াত চিকিৎসক জামালউদ্দিন খলিফার বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ বিষয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কেয়ারটেকারকে খুন করা হয়েছে।
লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। খুনের শিকার আবদুল ওহাব মাতুব্বর উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের তুজারপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আলেখারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও নাছিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুর রহিম বলেন, প্রয়াত চিকিৎসক জামালউদ্দিন খলিফা ঢাকার পিজি হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন। তিনি গ্রামের বাড়িতে দোতলা একটি দালান তৈরি করেন। বছর খানেক আগে তিনি মারা যান। গ্রামের বাড়িতে তার পরিবারের কেউ থাকতেন না। তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে ঢাকায় থাকেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসেন। বাড়িটি গত ৬-৭ বছর ধরে দেখাশোনা করতেন আবদুল ওহাব মাতুব্বর।
গত সোমবার থেকে ওই বাড়িতে সন্ধ্যা ও রাতে আলো জ্বলেনি। বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে কেয়ারটেকারের বড় বোন নুরজাহান বেগম (৭৫) তুজারপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে ভাইয়ের জন্য পিঠা বানিয়ে নিয়ে আসেন। ওই বাড়িতে গিয়ে গেটে দাঁড়িয়ে ভাইকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পাননি। এরপর বিষয়টি ঢাকায় অবস্থানরত বাড়ির মালিকের স্ত্রী কামরুন্নাহার হেনাকে (৬৫) জানান। কামরুন্নাহার হেনা বিষয়টি প্রতিবেশী মনিরুজ্জামান শেখকে (৪২) জানিয়ে খোঁজখবর নিতে বলেন। মনিরুজ্জামান শেখ এসেও বাড়িতে কারও সাড়াশব্দ না পেয়ে এলাকার আরও ৪-৫ জনকে ডেকে আনেন। এরপর ওইদিন রাত ৮টার দিকে তারা একটি মই এনে ওপরে উঠে দোতলার বেলকনির একটা দরজা খোলা দেখতে পান ও দুর্গন্ধ পান। একপর্যায়ে দরজার সিঁড়ির চিলেকোঠায় আবদুল ওহাব মাতুব্বরের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। এরপর বিষয়টি ভাঙ্গা থানাকে অবগত করানো হয়। পরে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও ফরিদপুর সিআইডি পুলিশের আরও একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ লাশটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে আসে। এদিকে, আবদুল ওহাব মাতুব্বরের বোন নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এ আমি কী দেখলাম! ভাইয়ের জন্য পিঠা বানিয়ে এনে কী দেখলাম! আমার সহজসরল নিরীহ ভাইকে যারা খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’