নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বস্তাবর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণাধীন জোতওসমান গ্রামের কাছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। গত বুধবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির বাধায় কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় বিএসএফ। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও নির্মাণকাজ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এমন হঠকারী কর্মকান্ড ভন্ডুল করে দেওয়ায় সাহসী পদক্ষেপের কারণে পত্নীতলা-১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কমান্ডার ও বিজিবি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নওগাঁ-১৪ বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বস্তাবর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণাধীন জোতওসমান এলাকায় প্রায় ৬০০ গজের মধ্যে দুই দেশের কোনো বেড়া নেই। জোতওসমান গ্রামের সীমান্তের অপর প্রান্তে ভারতের শিবরামপুর ক্যাম্পের ঠান্ডাপাড়া গ্রাম অবস্থিত। গত বুধবার ভারতীয় বিএসএফের একটি দল আন্তর্জাতিক সীমানা আইন অমান্য করে বাংলাদেশ সীমান্তের কোল ঘেঁষে অবস্থিত ভারতের ঠান্ডাপাড়া গ্রামটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ভারতের ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। আইন অনুযায়ী দুই দেশের সীমান্ত পিলার থেকে ১৫০ গজের মধ্যে ফসল চাষ ছাড়া স্থায়ী কোনো স্থাপনা কিংবা বেড়া দিতে পারবে না। এটি দুই দেশের জন্যই প্রযোজ্য হবে। কিন্তু বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে আসে-এমন খবর জানতে পেরে বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেয়।
প্রতিবাদের মুখে খুঁটি যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ : পতাকা বৈঠকে বিএসএফকে শূন্যরেখার মধ্যে কোনো কিছু নির্মাণ বা স্থাপনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য নির্মিত খুঁটি ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা। গতকাল বিকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মুহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে ভারতের পক্ষে ছয়জন বিএসএফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর জিতেন্দ্র সিং। বাংলাদেশের পক্ষে ছয়জনের নেতৃত্ব দেন সুবেদার মাহবুবর রহমান। বৈঠকে কোনো কিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে শূন্যরেখার মধ্যে খুঁটি ও যন্ত্র স্থাপন করার প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
এ সময় বিএসএফ জানিয়েছে, তাদের চা বাগানে নাকি বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়, এজন্য যন্ত্র ও খুঁটি স্থাপন করেছিল। আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি, শূন্যরেখার মধ্যে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী কোনো কিছু স্থাপনা করার সুযোগ নেই। না জানিয়ে করা যাবে না। এর মধ্যে তারা নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। চুপিসারে আর যেন না করে সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নে সীমান্তের শূন্যরেখার মধ্যে লোহার বৈদ্যুতিক খুঁটি ও একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্থাপন করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান পিলার ৮২৯ নম্বরের ২ নম্বর উপ-পিলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা সীমান্তের শূন্যরেখার ৫০ গজ অভ্যন্তরে রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বিএসএফের ৯৮ ব্যাটালিয়নের ফুলকাডাবরী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা সেদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্থাপন করে। বুধবার ঘটনাস্থলের পাশে চাষাবাদ করতে যাওয়া কৃষকরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেন। বিজিবি বিএসএফের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও যন্ত্র সরিয়ে নিতে বলে এবং পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়। পরবর্তীতে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।