এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করপোরেট কোম্পানিগুলোর ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেটের কারণে ডিম এবং মুরগির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত সরকার এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত ডিম-মুরগির বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে না।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ খান মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে ডিম এবং মুরগির বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং বাজারে সঠিক দাম নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) উদ্যোগে স্মার্ট বাজারব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে ঢাকা শহরের ২০ স্থানে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ১০০ স্থানে সীমিত লাভে ডিম, ফ্রোজেন মুরগি এবং অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারিরা ডিম ও মুরগির ৮০ শতাংশ উৎপাদন নিশ্চিত করে। আর করপোরেট গ্রুপের অবদান মাত্র ২০ শতাংশ। তবুও করপোরেট গ্রুপগুলোর কৌশলগত বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। যেখানে প্রান্তিক খামারিদের একটি ডিম উৎপাদনে ১০ দশমিক ৫০ পয়সা থেকে ১১ টাকা, ১ কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা, এক কেজি সোনালি মুরগি উৎপাদনে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা খরচ হয় সেখানে করপোরেট গ্রুপের একটি ডিম উৎপাদন করতে মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকা, এক কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা এবং এক কেজি সোনালি মুরগি উৎপাদনে ২০০ থেকে ২২০ টাকা খরচ হয়। এর মাধ্যমে করপোরেট গ্রুপগুলো কৌশলগতভাবে দাম কমিয়ে বাজার দখল করে প্রান্তিক খামারিদের দুর্বল করে দিচ্ছে। বিপরীতে প্রান্তিক খামারিরা উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে লাভ করতে পারে না। ফলে তাদের অনেকেই পোলট্রি বন্ধ করে দিচ্ছে।
সুমন হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে বর্তমানে একটি মারাত্মক সংকট চলছে, যার মূল কারণ হলো ফিড এবং মুরগির বাচ্চার বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকতে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি করেন তিনি।