মানিকগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ করা অনেক প্রাসাদসমৃদ্ধ দুটি জমিদারবাড়ি রয়েছে। সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদারবাড়ি এর অন্যতম। প্রায় ৫.৮৮ একর জমির ওপর নির্মিত জমিদারবাড়িটি সংস্কারের অভাবে দৃষ্টিনন্দন কারকার্যখচিত দুর্লভ নিদর্শন হারাতে বসেছে। সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিনে দিনে দর্শনার্থী কমে যাচ্ছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সংকুচিত হচ্ছে বিনোদনের পরিধি। জমিদারবাড়িটি সময়োপযোগী করে তোলা হলে বিনোদনপিপাসুদের পিপাসা মিটবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব।
সূত্র জানান, সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকায় উনিশ শতকে ইমারতগুলো নির্মিত হয়েছে। বালিয়াটি প্রাসাদ চত্বরটি চারদিকে প্রাচীরঘেরা। এখানে সাতটি প্রাসাদতুল্য ভবনে রয়েছে ২০০ কক্ষ। প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় দৃষ্টিনন্দন রংমহল রয়েছে। সেখানে জমিদার পরিবারের ব্যবহৃত নিদর্শনাদি প্রদর্শিত হচ্ছে। জমিদারবাড়িটির কর্ণধার ধনাঢ্য লবণ ব্যবসায়ী গোবিন্দ রাম সাহা বংশপরিক্রমায় দাধী রাম, পি ত রাম ও গোপাল রাম। জমিদারবাড়ি তৈরি ছাড়াও এ অঞ্চলে এবং রাজধানীতে তাঁরা বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয় ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার বিখ্যাত জগন্নাথ কলেজ তাঁদের বংশধর বাবু কিশোরী লাল রায় প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বালিয়াটি জমিদারবাড়িটি ধ্বংস হতে বসেছে। সুবিশাল অনেক ভবন থাকলেও মাত্র একটি ছাড়া বাকিগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। ভবনগুলোর এমন দুরবস্থা যে, যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটে যেতে পাড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। অন্দরমহলে পাঁচটি পাকা ঘাটসমৃদ্ধ একটি পুকুর থাকলেও শুধু খননের অভাবে এটি পরিত্যক্ত রয়েছে। প্রায় সব দরজা-জানালা ভাঙা, বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সাপের ভয়। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো এসেছি। জমিদারবাড়ির বিষয়ে সব ধরনের প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’