দেশে চিকিৎসা শিক্ষায় দেখা দিয়েছে সংকট। বিভিন্ন সময়ে দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে শিক্ষার্থী আসনসংখ্যা। এমনকি বেড়েছে সারা দেশের হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা। শুধু বাড়েনি শিক্ষক ও চিকিৎসকের সংখ্যা। সরকারি পর্যায়ে ৬ হাজার ১৮৩ জন চিকিৎসক পদোন্নতিবঞ্চিত হয়ে হতাশায় ভুগছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের তথ্যে দেখা যায়, দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যাপকের পদ রয়েছে ৮৩৩টি। এর মধ্যে ৫২৩টি অর্থাৎ ৬২ দশমিক ৭৮ শতাংশ পদই ফাঁকা। একইভাবে সহযোগী অধ্যাপকের ১ হাজার ৫২৬ পদের মধ্যে ৫৬০, সহকারী অধ্যাপকের ২ হাজার ২৮৪ পদের মধ্যে ১ হাজার ৭৮, কিউরেটরের ৬২ পদের মধ্যে ১৩ এবং প্রভাষকের ১ হাজার ৪২০ পদের মধ্যে ৩০৮টি পদ ফাঁকা। সব মিলে ৬ হাজার ১২৫ পদের মধ্যে ২ হাজার ৪৮২টি অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
মেডিকেল কলেজগুলোয় এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থীদের আটটি বেসিক বা মৌলিক বিষয় পড়ানো হয়। এগুলো হলো অ্যানাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফরেনসিক মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি ও ফিজিওলজি। সরকারি মেডিকেল কলেজে বেসিক বিষয়ে পাঠদানের জন্য ২ হাজার ৫ পদের মধ্যে ৫০৯টি শিক্ষকপদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপকের জন্য অনুমোদিত ২১৩টির মধ্যে ১৪৮, সহযোগী অধ্যাপকের জন্য নির্ধারিত ২৫৫টির পদের মধ্যে ৮৮, সহকারী অধ্যাপকের ৩৪৪টির মধ্যে ১০৮, কিউরেটরের ৫২ পদের মধ্যে আটটি শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ২৫ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীকে (স্বাস্থ্য) পদোন্নতির বিষয়ে একটি চিঠি দেয় বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম। বিসিএস স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম সভাপতি ডা. মীর্জা মো. আসাদুজ্জামান রতন বলেন, ‘৬ হাজারের বেশি চিকিৎসক পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করেও দুই থেকে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা অমানবিক। এতে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগীদের সেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। যেমন ক্যাডার-ননক্যাডার জটিলতা; অর্থাৎ ননক্যাডার থেকে যাঁরা ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন তাঁদের ও ক্যাডারদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ কীভাবে হবে? ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা অধ্যাপক হতে পারবেন কি না, সে জটিলতা। যাঁরা বৈষম্যের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা। এ ছাড়া মূল বিষয়ের বাইরে যাঁদের সাব-স্পেশালিটি রয়েছে তাঁদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন। এ ধরনের জটিলতা নিরসনে একটি কমিটি করা হয়েছে। আশা করছি, শিগগির কমিটি তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করবে। তারপর পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হবে।’ অধিদপ্তরের আরেক সূত্র জানান, গত বছর ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশন বাংলাদেশের এমবিবিএস পরীক্ষার সনদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করেছে। কারণ বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। তবে অধ্যাপক নাজমুল বলছেন, ‘এটা বাতিল হয়নি বা বাতিল করার বিষয় নয়। চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে তাদের কিছু নির্দেশনা ছিল। সে কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে এটা নিশ্চিত হবে।’