ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোবরোপিলিয়া এবং খারকিভ অঞ্চলে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে দোবরোপিলিয়াতেই পাঁচ শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৩০ জন।
শুক্রবার রাতভর রুশ বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, একাধিক রকেট ও ড্রোন হামলায় শহরটির আটটি বহুতল ভবনেরও ক্ষতি হয়েছে। ‘আগুন নেভানোর সময় দখলদাররা ফের হামলা চালালে দমকলের ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,’ গতকাল টেলিগ্রাম মেসেঞ্জার অ্যাপে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ছবিতে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আগুন জ্বলতে এবং জনজাল সরাতে উদ্ধারকর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে। পরে তারা উত্তর-পূর্ব খারকিভে পৃথক ড্রোন হামলায় তিন বেসামরিকের মৃত্যুর খবর জানায়। ‘এসব হামলা দেখাচ্ছে রাশিয়ার লক্ষ্য বদলায়নি। সেই কারণে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যতটুকু করা যায় এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা অব্যাহত রাখা খুবই জরুরি। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও বাড়াতে হবে। অতএব জীবন রক্ষা, আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনকে যুদ্ধে অর্থায়নে সহায়তা করে এমন সবকিছুই ভেঙে ফেলা উচিত। পুতিনকে যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করে এমন সবকিছু অবশ্যই গুঁড়িয়ে দিতে হবে,’ ফেসবুকে বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার রুশ বাহিনী ইউক্রেনজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাস অবকাঠামোতেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন কিইভকে গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ করে দেওয়ার পর এটিই ছিল মস্কোর সবচেয়ে বড় হামলা। রাতে রুশ বাহিনী ১৪৫টি ড্রোনের পাশাপাশি দুটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ইস্কান্দার-কে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে, জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এর মধ্যে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৭৯টি ড্রোন ভূপাতিত করতে পেরেছে, বাকিগুলোর মধ্যে ৫৪টি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আকাশযুদ্ধে প্রথমবার অংশ নিল ফ্রান্সে তৈরি যুদ্ধবিমান মিরেজ-২০০০। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সফলভাবে রুশ ড্রোন এবং বিমান হামলা প্রতিরোধ করেছে ফ্রান্সে তৈরি ওই যুদ্ধবিমান।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণার পরই সক্রিয় হয়েছে ইউরোপ। শুক্রবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বৈঠকে ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধভাবে ঋণনীতি শিথিল করে প্রতিরক্ষা খাতে আরও অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইইউ বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার করতে ইইউ-এর সদস্যরা মিলে ১৫ হাজার কোটি ইউরো ঋণ নেবে। এর বড় অংশ ব্যয় হবে ইউক্রেনের সামরিক সাহায্যে। -রয়টার্স