ইউক্রেনের সঙ্গে বহু-প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাব মস্কো মানতে পারছেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। তিনি বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছে আমরা তা খুব ভালোভাবে খতিয়ে দেখেছি। কিন্তু বর্তমান আকারে এ প্রস্তাব আমরা মানতে পারছি না।’ রাশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন সের্গেই রিয়াবকভ।
সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র-প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মস্কো মনে করে, মার্কিন প্রস্তাবে রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয়গুলো রাখা হয়নি। যে কারণে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই বিষয়গুলো নেই।’
ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাতের তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে। তার আগে ২০১৪ সালে তারা ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ইতি টানতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে কিয়েভ ও মস্কোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌদি আরবে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। এরই মধ্যে গত সপ্তাহান্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে বিরক্ত।
রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব না মানলে মস্কোর তেলের ওপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও যুদ্ধবিরতি হবে কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইউক্রেনকে ৩৫০ কোটি ইউরো অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউক্রেনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১০ কোটি ইউরো হলো সহজ শর্তে ঋণ এবং চার শ’ ইউরো অনুদান। এই সাহায্য হলো ইইউয়ের ইউক্রেন ফেসিলিটি প্রোগ্রামের অংশ। ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইইউ পাঁচ হাজার ইউরো সাহায্য দেবে ইউক্রেনকে।
এখনো পর্যন্ত কিয়েভ এক হাজার ছয় শ’ কোটি ইউরো পেয়েছে। এই অর্থ দিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করবে। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণ করে।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডে রাশিয়ার আট শ’ কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ ফ্রিজ হয়ে আছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর মস্কোর সম্পদ ফ্রিজ করা শুরু হয়। মঙ্গলবার সুইস সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেই সম্পদের পরিমাণ হলো ৮৪০ কোটি ডলার। এক বছরে আরও ১৮০ কোটি ডলারের সম্পদ চিহ্নিত করে ফ্রিজ করা হয়েছে। যে সব সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে, তার মধ্যে রিয়েল এস্টেট, বিলাসবহুল গাড়ি এবং শিল্পদ্রব্য রয়েছে।
সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ নয়। তা সত্ত্বেও তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউয়ের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সমর্থন করে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।