রুশ বাহিনীর অগ্রগতি থামাতে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন বেশ ক্লান্ত, তা-ও এমন এক সময়ে যখন কিয়েভ তার সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামনের দিনগুলোয় আর নির্ভর করা যাবে কি না তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ভুগছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে মস্কোর সেনারা ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় যে সংঘাতের সূচনা করেছিল, গতকাল তা চার বছরে গড়ায়।
এ বর্ষপূর্তির সপ্তাহখানেক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘অজনপ্রিয় স্বৈরশাসক’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, দেশ হারাতে না চাইলে তাঁর (জেলেনস্কি) উচিত দ্রুত রাশিয়ার সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি করা। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধান এর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘অপতথ্যের বুদবুদের’ মধ্যে বাস করছেন।
দুজনের এ কথার লড়াইয়ের মধ্যেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সৌদি আরবে রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সে বৈঠকে কিয়েভ ও তার ইউরোপের মিত্ররা ডাক না পাওয়ায় এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারের এ যুদ্ধ নিয়ে তার নীতি বদলে ফেলেছে। শান্তিচুক্তি হলেও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন যে ইউক্রেনে কোনো সেনা পাঠাবে না, কিয়েভকে এটা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেমনটা হলে পুরো দায় চাপবে ইউরোপের ঘাড়ে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া তারাও এ দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। পরিস্থিতি বুঝে জেলেনস্কি ইউরোপকে নিজস্ব সেনাবাহিনী গড়ার তাগিদ দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছেন ‘বাস্তববাদী’ হতে। সমর্থনের পরিমাণ বাড়াতে এবং এগিয়ে যাওয়ার পথ বের করতে শুক্রবার থেকে অন্তত কয়েক ডজন ফোনকলে কথা বলেছেন জেলেনস্কি, বেশির ভাগই ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার প্রথম মাসেই হতভম্ব হয়ে যাওয়া এ ইউরোপীয় নেতাদের অনেকেই যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে কিয়েভ গিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করে সংহতি জানাবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তিন বছরের এ যুদ্ধ এরই মধ্যে ইউক্রেনের হাজারো নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, শরণার্থীতে পরিণত করেছে ৬০ লাখের বেশি মানুষকে। দুই পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বিপুল, যদিও কেউই তার পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান প্রকাশ করছে না। নানা ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পশ্চিমা বিভিন্ন সূত্র ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলাদা অনুমান হাজির করছেন।-রয়টার্স