ইউক্রেন নিয়ে ফ্রান্সে ইউরোপের নেতাদের জরুরি সম্মেলনের প্রাক্কালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে তিনি ইউক্রেনে ব্রিটিশ শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত। আজ মঙ্গলবার থেকে সৌদি আরবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউক্রেনসহ নানান বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবর দিয়েছে। তার আগে গতকাল স্থানীয় সময় বিকালে প্যারিসে বসছেন ইউরোপের শীর্ষনেতারা। ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় তাদের ভূমিকা কী হবে তা ঠিক করতে তড়িঘড়ি এ বৈঠক হচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, প্যারিস বৈঠকের আগে রবিবার ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্টারমার ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী পাঠাতে প্রস্তুতি ও আগ্রহের কথা জানান। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে সমর্থন করেন। স্টারমার তার নিবন্ধে লেখেন, তিনি ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তি সমর্থন করেন, তবে এখনই নয়। প্রতিরক্ষায় ইউরোপের দেশগুলোর ব্যয় বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি। ‘প্রয়োজনে আমাদের নিজস্ব সেনা মোতায়েন করে ইউক্রেনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত ও আগ্রহী’, ভাষ্য স্টারমারের। ‘যেমনটা আমি প্যারিসেও বলব, শান্তি আসে শক্তির মাধ্যমে। এর বিপরীতটাও সত্য। দুর্বলতা যুদ্ধের দিকে পরিচালিত করে’, বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার এ বক্তব্য ইউক্রেন শান্তি আলোচনাকে ঘিরে ইউরোপের স্বার্থের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। জার্মানির এক এমপিও পরে জানান, যুদ্ধ শেষ হলে তার দেশও শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে অংশ নেবে। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্তেনেরগাদ বলেন, শান্তিরক্ষী মিশন হলে তাতে তার দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এদিকে হাঙ্গেরি প্যারিসের বৈঠককে ইউক্রেন শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘বাধা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেটার সিয়ারতো বলেছেন, ফ্রান্সে ইউরোপের ‘হতাশ’ নেতাদের বৈঠক ‘যুদ্ধপন্থি, ট্রাম্পবিরোধী’। প্যারিস থেকে ৩ হাজার মাইল দূরে ইউক্রেন নিয়ে বৈঠকে বসছে ওয়াশিংটন ও মস্কোর শীর্ষ দুই কূটনীতিক। বৈঠকে অংশ নিতে এরই মধ্যে ইসরায়েল থেকে সৌদি আরবের পথে রওনা হয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বৈঠকে থাকবেন। -রয়টার্স