ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে একটি অভিবাসী নৌকাসহ অন্তত ৭৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের পর্যটক সৈকতে অবতরণে বাধা দেন। এ ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জানুয়ারি)। আচেহ প্রদেশের লেউগে সৈকতে অবতরণের সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তা শরণার্থীদের নৌকায় থাকার নির্দেশ দেন এবং সৈকতের চারপাশে পাহারা দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শরণার্থীদের খাবার সরবরাহ করলেও তাদের সৈকতে নামতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তা রিজালিহাদি জানান, আজ (২৯ জানুয়ারি) সরকারি ছুটির দিন, এখানে প্রচুর জনসমাগম এবং আতঙ্ক রয়েছে তারা জনতার সঙ্গে মিশে যেতে এবং পালিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তাদের নৌকায় থাকতে হবে, যতক্ষণ না জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধিরা আসেন।
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে দীর্ঘকাল ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, বিশেষত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গণহত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এর ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে অনেকেই অত্যন্ত বিপজ্জনক নৌপথে সাগর পাড়ি দিতে বাধ্য হয়। বেশির ভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থীই নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ বা মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আশ্রয় প্রদানকারী দেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন বা পুনর্বিন্যাস করার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার চাপ বাড়ছে। তবে শরণার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান বের না হলে এ মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।