যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলমান দাবানল এখন ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। এতে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস, আনাহেইম, রিভারসাইড, স্যান বারনারডিনো, অক্সনার্ডসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের জীবন রক্ষা করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। এ পর্যন্ত দাবানলে অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও অনেকের জীবন এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য শত শত দমকলকর্মী দিনরাত কাজ করে চলেছেন। তবে তীব্র বাতাস পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও শক্তিশালী বাতাসের পূর্বাভাস রয়েছে, যা দাবানলকে আরও ছড়িয়ে দিতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে প্যালিসেডস ও ইটন দাবানল দুটি এখন সবচেয়ে বিধ্বংসী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে আগুনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
দাবানল ঠেকিয়ে রেখেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের দমকলকর্মীরা : গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের কিছু অংশ ধ্বংস করে দেওয়া দুটি ব্যাপক দাবানলের সীমা চরম পরিস্থিতি সত্ত্বেও মঙ্গলবার আর বাড়তে দেননি দমকলকর্মীরা। চারদিকে শুকিয়ে খটখটে হয়ে থাকা পরিবেশের মধ্যে মরুভূমি থেকে ধেয়ে আসা বাতাসে আগুন আরও উসকে ওঠার মতো বিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করছে, কিন্তু দমকলকর্মীদের অক্লান্ত চেষ্টায় দাবানল আর ছড়াতে পারেনি। উল্টো দাবানলের ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হলেও বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন তারা; জানিয়েছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্য ও দুটি বিদেশি রাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার ৫০০ দমকলকর্মী লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তারা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দাবানলগুলোকে আর বাড়তে দেননি। তবে ৭ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই দাবানলের থাবায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির প্রায় সমপরিমাণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। আকাশযানের একটি বহর শুকিয়ে রুক্ষ হয়ে থাকা পাহাড়গুলোতে পানি ঢালছে ও আগুন নিরোধক ছিটাচ্ছে। নিচে স্থলে থাকা দমকলকর্মীরা পানির পাইপ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আগুনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তীব্র ঝোড়ো বাতাসের কারণে আকাশযানগুলো কখনো কখনো নিচে নামিয়ে রাখতে হচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস নগরীর পশ্চিম প্রান্তের দাবানলটিই সবচেয়ে বড়। এই প্যালিসেইডস আগুন ৯৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা (২৩৭১৩ একর) পুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু দমকলকর্মীরা এটিকে এই সীমার মধ্যেই আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছেন আর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ ৩ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ১৭ শতাংশে উন্নীত করতে পেরেছেন। নগরীর পূর্ব প্রান্তের পাহাড়গুলোর পাদদেশের ইটন আগুন ৫৭ বর্গকিলোমিটারের (১৪১১৭ একর) মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। এই দাবানলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ২ শতাংশ বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো বৃষ্টি হয়নি। এতে পাহাড়ি ঝোপঝাড়গুলো শুষ্ক খড়কুটোর মতো হয়ে আছে। সিএনএন
এই পাহাড়গুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মরুভূমি থেকে ধেয়ে আসা স্যান্টা অ্যানা বাতাস আর তা দাবানলের জ্বলন্ত অঙ্গারগুলোকে উড়িয়ে তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, রাতে স্যান্টা অ্যানা বাতাস দমকা হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে আর এই বিপজ্জনক ‘রেড ফ্ল্যাগ’ পরিস্থিতি স্থানীয় সময় বুধবার পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। মঙ্গলবার দিনে বাতাসের বেগ ধারণার চেয়ে অনেক কম ছিল, কিন্তু স্থানীয় সময় বুধবার বেলা প্রায় ৩টার দিক থেকে পর্বতগুলোর ওপর বাতাসের বেগ বেড়ে দমকা হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ১১২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম জানিয়েছেন, রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে আরও ১১টি নতুন দাবানল শুরু হয়েছিল, কিন্তু দমকলকর্মী ও সরঞ্জাম আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় সেগুলো দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।