মিয়ানমারের সামরিক সরকারের এক বিমান হামলায় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের এক গ্রামে ৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশটির গৃহযুদ্ধ চতুর্থ বছরের কাছাকাছি আছে, এ সময়টিতেই হামলাটি চালানো হলো। দেশটির বেসামরিক ছায়া সরকার ও রাখাইনভিত্তিক জাতিগোষ্ঠীর মিলিশিয়া বাহিনী আরাকান আর্মিও (এএ) সরকারি বাহিনীর এ বিমান হামলার কথা জানিয়েছিল।
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায়, জান্তা বুধবার বিকালে ইয়ানবাই শহর-সংলগ্ন কিয়াউক নি মাও গ্রামে বিমান হামলা চালিয়ে প্রায় ৫০০ বাড়ি ধ্বংস ও ৪০ জনের বেশি হত্যা করে। মিয়ানমারের বিরোধী দলগুলোর জাতীয় ঐক্য সরকারও প্রায় একই তথ্য জানিয়েছে বলে খবর রয়টার্সের। তবে রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এসব প্রতিবেদন যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য রয়টার্স মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রকে ফোন দিলেও তিনি উত্তর দেননি।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা তাদের বিরুদ্ধে আনা নৃশংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আরাকান আর্মি ২৬ মুসলিম গ্রামবাসীর নাম প্রকাশ করে তারা ওই বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। ওই হামলায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এএ। ২০২১ সালে দেশটির সামরিক বাহিনী নোবেল পুরস্কার জয়ী নেত্রী অং সান সুচির দলের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে অস্থিরতা চলছে। সামরিক সরকার রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিবাদ দমনের পর থেকে জান্তাবিরোধীরা অস্ত্র তুলে নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। জাতিসংঘ তাদের বিবৃতিতে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তার বৈদেশিক আয় বন্ধ করার জন্য কর্মরত আন্দোলনকারীদের জোটে ‘ব্লাড মানি ক্যাম্পেইন’ দেশটির সামরিক বাহিনীকে আকাশযানের জ্বালানি সরবরাহ করা কোম্পানিগুলোর ওপর অবিলম্বে নিধেষাজ্ঞা আরোপের জন্য বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ব্লাড মানি ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র মুলান বলেছেন, এ সমর্থনগুলো বন্ধ হলে তাদের বিমান হামলার সত্যিকার ইতি ঘটবে।
এদিকে মিয়ানমারের মোবাইল অপারেটর মাইটেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক সম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর মাইটেলকে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় যুক্ত করে জানিয়েছে, কোম্পানিটি ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে নজরদারি সেবা এবং আর্থিক সহায়তা’ দিয়ে আসছে। মাইটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এর কার্যক্রমের মাধ্যমে সামরিক সরকার ‘নিশানাভুক্ত ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীগুলোকে ট্র্যাকিং ও শনাক্তকরণ মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করতে সক্ষম হচ্ছে।
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে মাইটেল কার্যত একটি বাণিজ্য অবরোধের মুখে চলে গেছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্য দপ্তরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
২০২১ সালে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকেই জান্তা সরকার দেশটির টেলিযোগাযোগ সেবায় হস্তক্ষেপ বাড়িয়েছে এবং প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীগুলোর ওপর নজরদারি ও দমন অভিযান চালাচ্ছে। দেশটিতে ১ জানুয়ারি একটি সাইবার সিকিউরিটি আইন কার্যকর হয়েছে, যার মাধ্যমে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহারের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পদক্ষেপটি টেলিকম শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসা ও ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রয়টার্স