গত বছর ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মূলত কংগ্রেসের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল ইন্ডিয়া ব্লক। সেই জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্বে চলা ইউপিএর দলগুলো ছাড়াও শামিল হয়েছিল সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল, ওমর আবদুল্লাহর ন্যাশনাল কনফারেন্স ও বাম দলগুলো। অন্ধ্রের ওয়াইএসআর কংগ্রেস, ওড়িশার বিজেডি ও তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে ছাড়া প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলই ইন্ডিয়া ব্লক-এ ছিল।
এখন সেই জোটেই বিরোধ তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লি নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট না হওয়ায় এবং সমাজবাদী পার্টি ও তৃণমূল আপকে সমর্থন করায় গোলমাল আরও বেড়েছে। আপ এবং কংগ্রেসও একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করছে। এ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ।
তিনি শ্রীনগরে বলেছেন, দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো যোগ নেই। আপ ও কংগ্রেস সেখানে ঠিক করুক কীভাবে তারা ভালোভাবে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারে।
উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে দিল্লিতে আপ ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট হয়েছিল। আপ লড়েছিল চারটি আসনে, তিনটিতে কংগ্রেস। কিন্তু জোট সত্ত্বেও সবকটি আসনে তারা বিজেপির কাছে হেরে যায়। বিজেপি আবার সাতটির মধ্যে সাতটি আসনে জয় পায়। এবার বিধানসভায় আপ ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট হয়নি। দিল্লির কংগ্রেস প্রধান অজয় মাকেন কেজরিওয়ালের তীব্র সমালোচনা করেন। কেজরিওয়ালকে ‘ফর্জিওয়াল’ অভিহিত করে মাকেন বলেন, কেজরিওয়াল জাতীয়তাবিরোধী। কারণ, তিনি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ৩৭০ ধারা বিলোপ, নাগরিকত্ব আইন সমর্থন করেছিলেন। মাকেনের অভিযোগ ছিল, করোনার সময় জনগণের টাকা খরচ করে কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সাজিয়েছেন। এরপর আপ জানায়, ইন্ডিটা ব্লক থেকে কংগ্রেসকে বহিষ্কার করার জন্য তারা অন্য শরিকদের বলবেন। সমাজবাদী ও তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে তারা আপকে সমর্থন করছে। ডয়চে ভেলে