আমেরিকার প্রেসিডন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে আরও ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই অস্ত্র বিক্রি চুক্তি সম্পন্ন করতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এসব অস্ত্রের মধ্যে জঙ্গি বিমানের যুদ্ধোপকরণ, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, কামানের গোলা, ছোট ব্যাসের বোমা ও ওয়ারহেডের মতো যুদ্ধাস্ত্র।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ৪৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে এলেও যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্রকে সমর্থন দেওয়া বজায় রেখেছে। ইসরায়েলের বিষয়ে মার্কিন নীতিও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। আগস্টে ইসরায়েলের কাছে যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ বিক্রির জন্য ২ হাজার কোটি ডলারের একটি চুক্তি অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন প্রশাসন এসব বিষয়ে যুক্তি দেখিয়ে বলেছে, এসব অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিদের মতো ইরান-সমর্থিত ‘জঙ্গি’ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের মিত্রের আত্মরক্ষায় সহায়তা করবে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখেও ওয়াশিংটন চলতি যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আর সেখানে প্রায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছোট্ট এ ভূখন্ডটিতে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে, বিভিন্ন মহল থেকে এমন অভিযোগ উঠলেও দেশটি তা অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী ওয়াশিংটন এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের ওপর ভিটো দিয়ে তা নাকচ করে দিয়েছে। ২০ জানুয়ারি ডেমোক্র্যাট বাইডেন হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেবেন আর নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দিনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। দুই প্রেসিডেন্ট পরস্পরবিরোধী দুই দলের হলেও তারা উভয়ের ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক।
এদিকে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের আটজন সদস্য দেশটির সামরিক বিষয়ক মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজকে ‘যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের জন্য’ গাজা উপত্যকায় পানি, খাদ্য এবং বিদ্যুতের সব উৎস ধ্বংস করতে দখলদার সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কাটজকে লেখা চিঠিতে তারা বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান যুদ্ধের নির্ধারিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সম্পূর্ণ অবরোধ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সাহায্যের পরিমাণ হ্রাস করা সত্ত্বেও আইন প্রণেতারা বলেছেন যে, উত্তর গাজার বাসিন্দাদের দক্ষিণে বাস্তুচ্যুত করার বর্তমান পরিকল্পনাগুলো ‘সঠিকভাবে’ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এএফপি