গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হয়েছে। দেশের প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১০৬ জনের ক্যান্সার আক্রান্তের তথ্য উঠে এসেছে অতি সম্প্রতি এক গবেষণায়। এতে বলা হচ্ছে, বছরে প্রতি লাখে নতুন করে ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছেন ৫৩ জন, আর মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশের জন্য দায়ী এই রোগ। আসুন ক্যান্সার জয়ে আমরা অনন্য, ঐক্যবদ্ধ হই। মনে রাখতে হবে ক্যান্সারে সচেতনতাই সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা।
এফএনএসি পরীক্ষা কী
ক্যান্সার শনাক্তের পর পর এফএনএসি পরীক্ষাটা গুরুত্ব হয়ে পড়ে রোগী। তবে পরীক্ষাটি বিশেষায়িত হাসপাতাল বা ল্যাবেই করানো উত্তম। কেননা এই পরীক্ষার পর পরই নির্ভর করে রোগীর পরবর্তী চিকিৎসার ধাপগুলো।
এফএনএসি পরীক্ষা কেন
যেকোনো গোটা বা টিউমার শনাক্ত হলে এর মধ্যে সুচ ঢুকিয়ে এফএনএসি বা ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন সাইটোলজি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এ পরীক্ষার জন্য কোনো বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। তবে গোটার অবস্থান ও নমুনার ধরনের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক কিছু বিশেষ নির্দেশনা দিতে পারেন।
প্রস্তুতি কেমন
আগে থেকে সেবন করা ওষুধ সম্পর্কে চিকিৎসককে জানান। রক্ত পাতলা করার মতো কিছু ওষুধ পরীক্ষার আগে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে। পরীক্ষার দিন আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। যদি রক্তপাতের ব্যাধি থাকে, তবে চিকিৎসককে বলুন। প্রয়োজনীয় ও আনুষঙ্গিক পরীক্ষার রিপোর্ট সঙ্গে নিন।
চিকিৎসক আপনাকে যেকোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলতে পারেন। সুচ ঢোকানোর সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চেতনানাশকের দরকার হয় না।
নমুনা সংগ্রহ : সুই ব্যবহার করে গোটা থেকে কিছু কোষ বা তরল নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত নমুনা না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করতে হতে পারে। এরপর সুই সরিয়ে রক্তপাত কমাতে চাপ প্রয়োগ করা হবে। পরে ছোট ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়। এ পরীক্ষা বহির্বিভাগেই করা যায়, ভর্তির দরকার হয় না। জায়গাটিতে হালকা ব্যথা অনুভব করতে পারেন, যা এক-দুই দিনের মধ্যে কমে।
ফলাফল
যক্ষ্মা, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ, ক্যান্সার বা ক্যান্সার-পূর্ব অবস্থা ইত্যাদি নির্ণয়ে এ পরীক্ষা নির্ভরযোগ্য। কিন্তু পজিটিভ মানেই যে সব সময় ক্যান্সার, তা না-ও হতে পারে। চিকিৎসক চিকিৎসা ইতিহাস, অভিযোগ, লক্ষণ ও উপসর্গ এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ক্যান্সার নির্ণয়ে আরও পরীক্ষা করাতে পারেন। প্রয়োজনে বায়োপসি করা দরকার হতে পারে। এসব চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুয়ায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এছাড়া এফএনএসি পরীক্ষার নির্ভুলতা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন পিন্ডের অবস্থান ও ধরন।
বায়োপসি ও এফএনএসি কি :
বায়োপসি করতে অস্ত্রোপচার দরকার হয় এবং শরীরের টিস্যুর একটি অংশ অপসারণ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। অন্যদিকে এফএনএসি করতে পুরোটা না কেটে একটি সিরিঞ্জ ব্যবহার করে কোষের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যেহেতু এফএনএসি সীমিতসংখ্যক কোষ সংগ্রহ করে, তাই এটি সম্পূর্ণ রিপোর্ট না-ও দিতে পারে। এফএনএসি করার পরও চিকিৎসক বায়োপসির সুপারিশ করতে পারেন।
তাই এসব ক্ষেত্রে অবহেলা না করে আমাদের আরও বেশি যত্নবান ও সচেতন হতে হবে।
-অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মোস্তফা
আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস, ধানমন্ডি-২, ঢাকা।