ফুসফুস দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত কার্বন-ডাই অক্সাইড বের করে দেয়। সুতরাং সুস্থতার জন্য ফুসফুসকে সুস্থ রাখা প্রয়োজন। শীতকালে আমাদের দেশে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার বাতাস শুষ্ক ও ঠান্ডা থাকে এবং শীত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি ও অফিসের দরজা-জানালা বন্ধ রাখি। এসব কারণে ভাইরাস ও জীবাণু সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং ইতিপূর্বে যারা অ্যাজমা বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টের রোগী তাদের উপসর্গ বেড়ে যায়। ফলে শীতকালে ফুসফুস ভালো রাখতে কিছু অতিরিক্ত সতর্কতা বা পদক্ষেপ প্রয়োজন যেমন-
১. মাস্ক ব্যবহার করা, বাইরে যাওয়ার সময় নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখা, যাতে জীবাণু ও দূষিত বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করতে না পারে। ২. যারা আগে থেকেই অ্যাজমা বা শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত তারা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করবেন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। ৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ। ৪. নিয়মিত ব্যায়াম। ৫. ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা। ৬. সংক্রমণ কমানোর জন্য বার্ষিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সের জন্য নিউমোক্কাল ভ্যাকসিন গ্রহণ। ৭. বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। তাই শীতকালে ফুসফুসের যত্ন নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
লেখক : বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, আফরোজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, বসুন্ধরা আ/এ, ঢাকা।