নাক ডাকা শুধু পাশে ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তির বিরক্তিরই উদ্রেক করে না, এটা রীতিমতো একটি অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক অভ্যাস। কারও যদি মাঝেমধ্যে হঠাৎ নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, তাহলে সেটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু যারা অভ্যাসবশত প্রায়ই নাক ডাকেন, তারা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এ ধরনের অভ্যাসে আপনি স্লিপ অ্যাপনিয়া জাতীয় সমস্যায় পড়তে পারেন, যা মারাত্মক এবং এমনকি প্রাণঘাতী রূপ পর্যন্ত ধারণ করতে পারে।
তা ছাড়া নাক ডাকার বিদঘুটে আওয়াজে আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ঘুমটা তো মাটি হবেই। অতিরিক্ত নাক ডাকার কারণে স্বামী-স্ত্রী অনেক সময় এক বিছানায় তো দূরের কথা, এক রুমেও ঘুমাতে পারেন না। বিদেশে বিবাহবিচ্ছেদের যত কারণ রয়েছে, নাক ডাকা তার অন্যতম। নাক ও মুখ দিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে ও ছাড়তে না পারলে নাক ডাকা সমস্যার শুরু হয়।
নাক ডাকা বন্ধে মানতে পারেন বেশ কিছু পরামর্শ-
* যেকোনো এক পাশে কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। পিঠের ওপর ভর দিয়ে অর্থাৎ চিৎ হয়ে শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। জিহ্বা ও গলার মাংসপেশি নাক ডাকা প্রতিরোধে কাজ করে। চিৎ হয়ে শোয়ার অভ্যাসে জিহ্বা ও গলার মাংসপেশিগুলো কিছুটা নেমে গিয়ে বেশ শিথিল ও সংকুচিত হয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে নাক ডাকা তীব্রতর হয়।
* মাঝেমধ্যে নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা থাকলে নাকের স্প্র্রে ব্যবহারে সাময়িক পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। এমনকি এভাবে সমস্যাটির সমাধানও হয়ে যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই স্প্রে ব্যবহার করুন। * ধূমপান ও মদপান থেকে দূরে থাকুন। এ দুটি নেশা আপনাকে হাজারো স্বাস্থ্য সমস্যার মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে, যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া হয়তো কখনোই সম্ভব হবে না।
* স্থূলকায় শরীরের কারণেও অনেক সময় নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে। তাই শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন। এ জন্য নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং, যোগাসন, মেডিটেশন ও ব্যায়াম করা অভ্যাসে পরিণত করুন। সম্ভব হলে সাঁতার কাটুন। কারণ সাঁতার সর্বাঙ্গের ব্যায়াম হিসেবে বহু আগে থেকেই স্বীকৃত। * নাক ডাকার অভ্যাস থাকলে একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করুন। এতে আপনার ঘাড়ে কম চাপ পড়বে, গলাও কম সংকুচিত হবে এবং স্বাভাবিকভাবে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হবে না। বাজারে অনেক ধরনের নাকের ড্রপ, তৈলাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়, যা রাতের বেলা ঘুমানোর আগে ব্যবহার করা হলে নাক ডাকা কমতে পারে। তবে স্লিপ অ্যাপনিয়া চিকিৎসায় এগুলোর কোনো ভূমিকা নেই।
সঠিক চিকিৎসার পূর্বশর্ত হচ্ছে রোগ নির্ণয়। বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে যারা স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন তাদের সারা রাত ধরে স্লিপ সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে। স্লিপ স্টাডি বা পলিসমনোগ্রাফির মাধ্যমে ব্রেইন, হার্ট ও শ্বাস এই তিনটির কার্যক্ষমতা বিস্তারিতভাবে জানা যায়।
লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি., শ্যামলী, ঢাকা।