নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, ভূগর্ভের পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এটা অশনি সংকেত। বড় ধরনের বিপদের মুখে আছি আমরা। এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। ঠিক যেন নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছি।
তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভূপৃষ্ঠের পানির উৎস কমে যাওয়ায় ভূগর্ভের পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ঢাকার চারপাশ ঘিরে নদী থাকলেও দূষণের কারণে এসব নদ-নদীর পানি সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী। ফলে রাজধানীর প্রায় প্রায় ২ কোটি মানুষের ব্যবহারের শতকরা ৭০ ভাগ পানিই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করতে হচ্ছে। প্রতিদিন এ বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর খুব দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে না পারলে যে কোনো সময় ভূমিধসের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, আমাদেরকে জরুরিভিত্তিতে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এটা শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই করতে হবে। এজন্য জরুরিভিত্তিতে নদ-নদী, খাল-বিল উদ্ধার করে এগুলোর পানি ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। রাজধানীতে যত্রতত্র আবাসন-কলকারখানার কারণে জলাশয় দখল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের পানি ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। একটি বাসযোগ্য শহরের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জলাভূমি থাকা দরকার। ঢাকা সিটিতে জলাভূমি রয়েছে ৩ শতাংশেরও কম। যেটুকু আছে, তাও হারিয়ে যাচ্ছে।
এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশে বিপর্যয় নেমে আসবে। রাজধানীতে প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিক গতিতে দালানকোঠা ও বিভিন্ন ধরনের কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে জলাশয়গুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে যেতে পারছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক গতিতে নিচে নেমে যাওয়ার এটাই বড় কারণ। দেশ বাঁচাতে নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষা করতেই হবে। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যে কাউকে ছাড় দেবে না- এই বার্তাটা দ্রুত দেওয়া দরকার।