রাজশাহীকে বলা হয় বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি। গত ১৮ বছর এই রাজশাহীতে নানা ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে যেতে হয়েছে। অনেকটা দৌড়ের ওপর থাকতে হয়েছে দলটির নেতা-কর্মীদের। তবে ৫ আগস্টের পর প্রেক্ষাপট পাল্টেছে। রাজনীতির মাঠ দখলে নিয়েছে বিএনপি। কিন্তু সেখানে ‘মধুর’ সমস্যা দেখা দিয়েছে নেতৃত্ব নিয়ে। শুরু হয়েছে ‘ত্রিধারা’র নেতৃত্ব। এই ত্রিধারায় রয়েছেন কেন্দ্র থেকে দেওয়া মহানগর কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা ও সদস্যসচিব মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ। ওই কমিটির চার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, আসলাম সরকার, জয়নাল আবেদীন ও ওয়ালিউল হকের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ এবং কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও শফিকুল হক মিলনের নেতৃত্বে আরও একটি গ্রুপ। যাঁরা দলের সব কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করছেন।
এর মধ্যে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ এনে গত ১৭ মার্চ রাজশাহীতে থাকা বিএনপির তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে (মিজানুর রহমান মিনু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও শফিকুল হক মিলন) সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে মহানগর কমিটি। এ নিয়ে দলের মধ্যে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনাকে নজিরবিহীন বলছেন অনেকেই। মহানগর কমিটির এমন চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে দাবি করেছেন তাঁরা। তবে মহানগর কমিটির নেতারা বলছেন, কেন্দ্রের নির্দেশেই তাঁরা এই চিঠি দিয়েছেন। এ অবস্থায় মহানগর বিএনপির এই দ্বন্দ্ব নিরসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামকে। ৮ এপ্রিল নগর নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীকে আহ্বায়ক ও মামুন অর রশিদকে সদস্যসচিব করে নগর বিএনপির ৯ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে সাতজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। তারা হলেন নজরুল হুদা, দেলোয়ার হোসেন, মো. ওয়ালিউল হক, আসলাম সরকার, শফিকুল ইসলাম, বজলুর রহমান ও জয়নাল আবেদীন। ২০২২ সালের ৫ মার্চ ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই বিভক্ত হয়ে পড়ে বিএনপি। মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে ডাক পাচ্ছেন না কেন্দ্রীয় তিন নেতা। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ পরিবারের সঙ্গে ৭ মার্চ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়া অনুষ্ঠান ছিল নগরীর ভুবনমোহন পার্ক শহীদ মিনারে। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সেখানে তাঁরা ডাক পাননি। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপি আয়োজিত দলের বিভাগীয় শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। সেই সমাবেশেও ওই তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে দেখা যায়নি।
২৪ অক্টোবর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নগরীর সাত থানার আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। কিন্তু পাল্টা কমিটি দেন চার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, আসলাম সরকার, জয়নাল আবেদীন ও ওয়ালিউল হক। এই কমিটি করার পরে দলের অসন্তোষের কথা কেন্দ্রে চলে যায়। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম এসে তা মীমাংসা করে দেন। পাল্টা কমিটির আহ্বায়কদের যুগ্ম আহ্বায়ক করে কমিটি পুনর্গঠন করে দেওয়া হয়। মিজানুর রহমান মিনু বলেন, যাঁরা এখন কমিটিতে আছেন, তাঁরা কোনো অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান না। তাঁরা ভূমিদস্যুতা, মারামারি, চাঁদাবাজি- এসবে ইন্ধন দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত।
মহানগর কমিটির সদস্যসচিব মামুন অর রশিদ বললেন, ‘মিনু ভাই আমার বড় ভাই। তিনি যে অভিযোগগুলো করেছেন, এগুলো সত্য না।’