চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলছে মৃত্যুর মিছিল। লবণ ও মাছ বহনকারী গাড়ি থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়া, অপ্রশস্ত সড়ক, আঁকাবাঁকা পথ মহাসড়কটিকে পরিণত করেছে মৃত্যুফাঁদে। ফলে মহাসড়কটিতে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝরছে প্রাণ। গত এক বছরে শুধু ৮৩ কিলোমিটারে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩০ জন।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। এ মহাসড়কের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে চালকদের বিশ্রামহীন টানা গাড়ি চালানো, লবণ ও মাছ বহনকারী গাড়ির পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ার কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।’
জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ১৫৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১০০ কিলোমিটারকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে কক্সবাজার সদরের খরলিয়া পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটারকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ অংশে গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩০ জন। যার মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় গত ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৬৩টি। এতে নিহত হয়েছেন ২৯ জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। মহাসড়কটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে লবণ ও মাছবাহী গাড়ির পানিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া। দেশের প্রধান লবণ উৎপাদনকারী জেলা কক্সবাজারের উৎপাদিত ২৫ লাখ টন লবণ পরিবহন হয় এ মহাসড়ক দিয়ে। পরিবহনের সময় লবণের পানি সড়কে পড়ার ফলে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। আবার বিভিন্ন বাহনে করে সারা দেশে নিয়ে যাওয়া হয় এ অঞ্চলের মাছ। ফলে ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর লবণপানি কিংবা মাছের পানি পড়ে মারাত্মকভাবে পিচ্ছিল হয়ে যায়। এ ছাড়া মহাসড়কের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অংশে রয়েছে বিপজ্জনক ৩০টি বাঁক। সেসব বাঁকে নেই দিকচিহ্ন-সংবলিত সাইনবোর্ড। মহাসড়কের দুই পাশে রয়েছে ঘন জঙ্গল। ফলে দূর থেকে বাঁক চোখে পড়ে না। মহাসড়কটি ৬০ থেকে ১০৪ ফুট পর্যন্ত জায়গা অধিগ্রহণ করা থাকলেও দুই লেনের মূল সড়কটি ২৪ ফুটের। কোথাও কোথাও সড়কটি হয়ে গেছে ২০ ফুটের। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হলেও নানা কারণে সম্প্রসারণে নেওয়া প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সড়কটির চট্টগ্রাম থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত অংশ সম্প্রসারণ করে ৩৪ ফুটে (প্রস্থ) উন্নীত করা হলেও কক্সবাজার পর্যন্ত সড়কটির প্রস্থ এখনো ২০-২২ ফুট। দেশের বিভিন্ন উপজেলা সড়কগুলোর চেয়েও সরু এ সড়ক দিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। পাহাড়ি সরু ও আঁকাবাঁকা পথের কারণে অন্য অঞ্চলের যানবাহনচালকরা এ সড়কের ধরন বুঝতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সম্প্রসারণ কিংবা আঁকাবাঁকা অংশে ট্রাফিক ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া না হলে দুর্ঘটনার পরিমাণ আরও বাড়বে।