মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম। তবে অভিনয়গুণে ওটিটিতেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নানাভাবে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন।গুণী এ তারকার সঙ্গে কথোপকথনে - পান্থ আফজাল
কেমন আছেন?
অনেক ভালো আছি।
নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছেন। আপনার দিক থেকে এ বিষয়ে অভিমত কী?
প্রত্যেকের অভিনয়ের প্যাটার্ন আলাদা। দর্শক কী পছন্দ করছে সেটা সে তাঁর মতো করে ভাবছে, আমি আমার মতো করে ভাবছি। কেউ কারও জায়গা নিতে পারে না, কেউ কারও রাস্তা দখল করতে পারে না। দিনশেষে দর্শক বিচার করবে ভবিষ্যতে কী হবে।
মঞ্চে অভিনয়ে যুক্ত কীভাবে?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন যুক্ত হই নাট্য আন্দোলনে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে ঢাকা থিয়েটারে মঞ্চ অভিনেতা হিসেবে যোগ দেই। এখনো আছি, তবে অনিয়মিতভাবে।
দীর্ঘ বছর ধরে রোজী-সেলিম একই ছাদের নিচে...
অনেক অমিল থাকা সত্ত্বেও আমরা একে অন্যকে ভালোবাসি। এটা হলো একটা অলিখিত বোঝাপড়া। আমি আর রোজী দীর্ঘ বছর ধরে সংসার করছি। দুজনের মধ্যে বোঝাপড়ায় সমস্যা হলে এ দীর্ঘ সময় ধরে কি একই ছাদের নিচে থাকতে পারতাম? সে আমাকে বোঝে, আমিও।
হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে সখ্য কেমন ছিল?
ফরীদি ভাই মজার মানুষ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব মাথায় মাথায়। আড্ডা হতো প্রায় দিনই। তাঁকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তাঁকে চূড়ান্তভাবে মিস করি। আমার জীবনে তিনি সিংহভাগ জায়গা দখল করে আছেন। রোজীর সঙ্গে আমার বিয়ে হওয়ার ব্যাপারেও ফরীদি ভাইয়ের অবদান অনেক। আমি যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করি তিনি তখন নাট্য সম্পাদক ছিলেন। আমার থেকে চার বছরের বড় ছিলেন। কিন্তু ছিলেন সবচেয়ে কাছের বন্ধুর মতো। আমার যত বড় বড় মঞ্চের চরিত্র পাওয়া-তারই অবদান।
শিল্পী ও সাংবাদিকের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কী বলবেন?
একসময় সুন্দর পরিবেশ ও সুসম্পর্ক শিল্পী ও সাংবাদিকদের মধ্যে ছিল। দুই জগতের মানুষ বিভিন্ন আড্ডায় একাত্ম হয়ে যেতাম। এখন তা খুবই কম দেখা যায়। শিল্পী তৈরির পেছনে সাংবাদিকদের পৃষ্ঠপোষকতা বা সাপোর্ট খুবই দরকার। আগে শিল্পীর সঙ্গে সাংবাদিকের এমন সম্পর্ক ছিল যে, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বাড়ি চিনত, নিমন্ত্রণ করত, একসঙ্গে আড্ডা দিত, বন্ধুর মতো সব কিছু শেয়ার করত। এখন অনেকেই আছেন যারা অল্পের মধ্যেই সেরে ফেলতে চান; তা ফোন করে। আবার অনেকেই আছেন তারা কিন্তু শিল্পী সম্পর্কে জেনে, স্টাডি করে তবেই ইন্টারভিউ করেন। যারা পুরোনো তারা তো জানেনই! একজন শিল্পী সম্পর্কে কেউ যদি জেনে প্রশ্ন করে তবে শিল্পীর মনে এক আনন্দের শিহরণ জাগে।
চলচ্চিত্র নিয়ে সামনের পরিকল্পনা কী?
তেমন করে কখনোই কোনো পরিকল্পনা করি না। তবে কিছু চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে কাজ করেছি। কিছু করার কথা চলছে।