জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কাজী শুভ। যিনি নিজস্ব গায়কির ব্যতিক্রমী ঢং আর সুরের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন অগণিত শ্রোতাকে। আধুনিক, মেলোডি ও লোকজ গানে রয়েছে তাঁর অনবদ্য বিচরণ। শুভর গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন - পান্থ আফজাল
কী কী গান প্রকাশ পেয়েছে?
ভালোবাসা দিবসে একটি গান প্রকাশ পেল। জাহিদ আকবরের লেখা আর আমার সুরে গানটির নাম ‘ওরে মন পাখি’। এটি ডুয়েট গেয়েছি স্বরলিপির সঙ্গে। এর আগে তো বেশ কিছু গান রিলিজ পেয়েছে।
নতুন গানের খবর আছে?
বেশ কিছু গান তৈরি রয়েছে। এর মধ্যে আমি আর আরেফিন রুমি মিলে একটি গান করেছি। নাম ‘বেবি ডল’। গানটি চটুল টাইপের। রবিউল ইসলাম জীবনের লেখা ও আরেফিন রুমির সুর-সংগীতায়োজনে করা।
কাজী শুভর ইউটিউব চ্যানেল কী অবস্থায়?
ভালোই বলা যায়। নিয়মিত গান প্রকাশ পাচ্ছে। তিন বছর হয়েছে। প্রায় ৩০টি মৌলিক গান চ্যানেলে রয়েছে। মূলত আমি আমার ইউটিউব চ্যানেলের জন্যই এখন গান তৈরি করছি। অনেকগুলো প্রস্তুত রয়েছে। অন্য প্ল্যাটফরমের জন্যও গান রয়েছে। তবে নিজের প্ল্যাটফরমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি এখন। ফেসবুক, স্পটিফাই, গানা, হাঙ্গামাসহ সব জায়গায় মার্কেটিংও করছি। সবকিছু মিলে আলহামদুলিল্লাহ।
শিল্পীর পরিচয় কি মৌলিক গানে নাকি কাভার-ফিউশনে?
অবশ্যই মৌলিক গানে। পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের কী দিয়ে মনে রাখবে? সেটা তো আমাদের রেখে যাওয়া মৌলিক গান দিয়েই! মৌলিক গান আমাদের পরিচয়। যদিও অনেক শিল্পী মৌলিক গান গাইতে চান না। তাদের গাওয়ার মতো তেমন করে মৌলিক গান নেই। মনে করি, মৌলিক গান ছাড়া শিল্পীর কোনো ভ্যালু নেই। যতই সে কাভার সং বা ফিউশন করুক! প্রত্যেক শিল্পীকে নিজের গানকেই প্রমোট করা উচিত।
কিন্তু স্টেজে তো হিন্দি, কাভারসহ বিভিন্ন গানের রিকোয়েস্ট করে দর্শক...
আমি স্টেজে নিজের গানই করি। এটা তৈরি হয়ে গেছে। অর্গানাইজার বা অ্যারেঞ্জাররা সেভাবেই আমাকে ভ্যালু দেয়। তবে দর্শকের রিকোয়েস্টে বাউল ঘরানার গান, বাচ্চু ভাইয়ের গান মাঝে-মধ্যে করি। এখন শিল্পীরা মৌলিক গান করার সাহস করে না স্টেজে; তারা অন্যের গান বা কাভার সং গাইতে পছন্দ করে বেশি। এটা ঠিক নয়। মৌলিক গানকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত শিল্পীর।
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এখন কী অবস্থা?
খারাপ-ভালো সবকিছু নিয়েই আছে। আগে তো ক্যাসেট-সিডির পরীক্ষা দিতে হতো। ১০টি গানের মধ্যে যদি একটি গান ভালো হয় তাহলেই পাস। আর এখন গান গেয়ে ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেয় ভিউ আর ভাইরাল হওয়ার আশায়। তবে কেউ কেউ ভালো গানও করছে। তবে নেতিবাচক দিকই বেশি। এখন কিন্তু মানুষ আগের চেয়ে বেশি গান শোনে। তবে ভালো কিছু পৌঁছায় কম। এখন প্ল্যাটফরমে সিঙ্গেল ট্র্যাক রিলিজ দেয়, যেটা খুবই রিস্কি। মানুষ শুনবে কি শুনবে না তা নিয়ে শঙ্কায় থাকে শিল্পীরা।
শিল্পী হিসেবে প্রত্যাশা কী?
শ্রোতারা যেভাবে আমার গান পছন্দ করে সেভাবেই করতে চাই। সফট, মেলো আর বিচ্ছেদের গান করি, সেটাই করব সর্বদা।