‘মনপুরা’ খ্যাত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রনির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের সিনেমা ‘কাজলরেখা’ দেশ- বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার এ সিনেমা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন তিনি। গতকাল হোয়াটস অ্যাপে এ প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন-আলাউদ্দীন মাজিদ
আবারও আন্তর্জাতিক উৎসবে ‘কাজলরেখা’- কেমন লাগছে?
‘কাজলরেখা’ এবার রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হলো, কাজেই আনন্দটা অনেক বেশি। ‘আমার সৌভাগ্য এজন্য যে, এমন একটি উৎসবে ‘কাজলরেখা’ সিলেক্ট হয়েছে। এ চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করেছে। মনে হচ্ছে পরিচালক হিসেবে শ্রমটা সার্থক হয়েছে।
ওখানকার দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন?
অনেক ভালো লাগছে এই জন্য যে, ইউরোপের দর্শকরা খুব কমিউনেট করেছে। সব মিলিয়ে ৫টা শো হয়েছে। আমাদের দেশের দর্শকরা সিনেমা দেখতে গিয়ে যেভাবে কোথাও হাসে, কোথাও কাঁদে, কোথাও হাততালি দেয় এখানকার দর্শকরাও তাই করেছে। এক কথায় তারা আপ্লুত। এটা দেখে একজন নির্মাতা হিসেবে নিজেকে অনেকটা সার্থক মনে হয়েছে। এখানেই আমার প্রাপ্তি। এখানেই আমার ভালো লাগা। বিষয়টি ভাবতেই ভালো লাগছে।
কাজলরেখায় মূলত কী দেখাতে চেয়েছেন?
এটি মূলত আমাদের দেশের গল্পের সিনেমা। আমি সবসময় আমার সিনেমা কিংবা নাটকে আমার দেশকে প্রেজেন্ট করার চেষ্টা করি। বিখ্যাত ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে ‘কাজলরেখা’ নির্মাণ করেছি। ইউরোপের দর্শকরা যখন আমাদের দেশের গল্পের সিনেমার প্রশংসা করছেন, তখন তা দেখে এখানে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির মানুষরাও খুব খুশি। তারা বুঝতে পারছেন ভালো একটি কাজ নিয়ে এসেছি।
ইউরোপের দর্শকরা কী বলছেন?
ইউরোপের দর্শকরা ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তা দেখে এখানকার বাঙালি কমিউনিটির মানুষেরা বলছেন তাদের প্রাউড করতে পেরেছি। ওরা এজন্য অনেক খুশি। কারণ ওদের বন্ধুদের মুখ নাকি উজ্জ্বল করেছি।
সবশেষে কী বলবেন?
সবশেষে এটাই বলব ‘কাজলরেখা’ সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, যেটা আমি চেয়েছিলাম সেটাই হয়েছে। দেশে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। এবার দেশের বাইরে এসেও তা পাচ্ছি। এর চেয়ে বড় সফলতা আর কী হতে পারে।
আগামীতে কেমন গল্পের সিনেমা নিয়ে আসছেন?
এবার একেবারেই অন্য ধরনের একটি গল্প নিয়ে দর্শকের সামনে আসব। আমি বরাবরই ডিফারেন্ট সব গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করি। এবারও তাই হবে। দেশে ফিরে সব চূড়ান্ত করব।