ঢাকাই সিনেমার অন্যতম চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন। ‘দারুচিনি দ্বীপ’ দিয়ে অভিষেকের পর থেকে নানারকম বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ভালো গল্প ও কনসেপ্ট পছন্দ হলে ওটিটি, ছোট পর্দা এবং বিজ্ঞাপনেও কাজ করছেন। সম্প্রতি ‘মায়া’ দিয়ে মায়া ছড়িয়েছেন ভক্তদের মাঝে। তার সঙ্গে সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেছেন - পান্থ আফজাল
আমেরিকা মিশন শেষ করেই বিজ্ঞাপনের শুটিং কেমন হলো?
ভালোই তো। যেহেতু আমি বিজ্ঞাপনের মানুষ। তাই এ সেক্টরে কাজ করতে ভালো লাগে। আসলে বহুদিন পর ভিন্ন একটি কনসেপ্টে বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছি। তাও আবার শখের সঙ্গে। আবুল হায়াত ভাই ও দিলারা আপাও ছিলেন। সুন্দর একটি কাজ বলা যায়।
আর কি কাজ শুরু করেছেন?
একটি সিনেমার কাজ শেষ করেছি। নাম ‘ময়নার চর’। ডাবিং বাকি ছিল, তাও শেষ করেছি গতকাল। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে ‘দেনা পাওনা’ সিনেমার শুটিং শুরু হবে ১০ তারিখ থেকে। এটি সাদেক সিদ্দিকীর পরিচালনায়। গাজীপুর ও আশপাশের জমিদার বাড়িতে এটির শুটিং হবে বলেই জানি, যেহেতু রবীন্দ্রনাথের গল্প। সামনে বেশকিছু বিজ্ঞাপন ও ফিল্মের শুটিং করব, কথা চলছে।
এর মধ্যে দেখলাম বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড পেলেন...
হুমম.. শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ৪টি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি রায়হান রাফির ‘মায়া’ ওয়েবের জন্য। এর মধ্যে দুটি হলো ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ও আইকনিক অ্যাওয়ার্ড আর বাকি দুটি বাংলাদেশ থেকে।
বাণিজ্যিক ছবির নায়ক হয়েও ‘মায়া’তে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
অনেক পরিশ্রম ও ডেডিকেশন নিয়ে কাজটি করেছিলাম। কাজটির আগেও আমার অনেক বড় বড় চুল ছিল। এ কাজটির কারণে আমার চুল একেবারে ছোট করে ছেঁটে ফেলতে হয়েছিল। আমার ক্যারিয়ারে পুরো জার্নির অন অব দ্য বেস্ট কাজ বলা যায় রাফির ‘মায়া’।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন কেমন?
অবস্থা বেশি ভালো না আবার খারাপও না। আসলে ইন্ডাস্ট্রির আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবেই। এগুলো নিয়ে এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সবসময় চেষ্টা থাকবে ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে ভালো কাজ করার।
অভিনয়ের বাইরে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে করপোরেট জব, কেমন লাগছে?
খুবই ইনজয় করছি আমি। দিনশেষে মনে হয়, ক্রিয়েটিভ কিছু করতে পারছি। আমি যে কাজই করি না কেন সবসময় ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করি। আর ব্যস্ত থাকতে ভালো লাগে আমার। সেই হিসেবে এত বড় একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির এক্সিকিউটিউ ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত হওয়া। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা।
আমেরিকা ভ্রমণ কি প্রায়ই করেন?
বেশ কয়েকবার গিয়েছি, তাও অন্তত ১৫ বার! তবে এর আগে যতবারই গিয়েছি, সামারে গিয়েছি। এবারই প্রথম শীতে গেলাম, জানুয়ারিতে। সেখানে স্নোফল দেখলাম। বন্ধু ও কলিগরা মিলে তারমধ্যে লাফালাফি করলাম। ফলশ্রুতিতে তিন দিন ধরে গলাব্যথা হয়ে গেল। তাই বলা যায়, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়েই এ সফরটা গিয়েছে। তবে ভালোই বলব সব।
আর সুখের সংসার...
আলহামদুলিল্লাহ! খুবই ভালো কেটে যাচ্ছে। আমাদের সুখের সংসার। এমনিতেই আমার সবকিছু ভালো যায়। সংসার তো জোস যাচ্ছে।