সবার প্রিয় গায়ক শায়ান চৌধুরী অর্ণব। দুর্দান্ত লেখনী ও গায়কিতে শ্রোতাদের বুঁদ করে রাখাই তাঁর স্বভাব। হঠাৎ হাজির হন নতুন চমক নিয়ে। কোকস্টুডিও বাংলার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ার পর নতুন খবর নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে- পান্থ আফজাল
বইমেলায় আসছে আপনার গানের বই...
অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল আমার লেখা ও সুর করা গান নিয়ে একটি বই বের করব ইংরেজি অনুবাদসহ। কারণ, চাই আমার পুরনো ও নতুন শ্রোতা যেন আমার গানের সঙ্গে রিলেট করতে পারে।
বলছেন, ‘হারিয়ে গিয়েছি, এ তো জরুরি খবর’ আবার ‘আকাঙ্ক্ষা- হতাশায় হারিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই!’-রহস্যময় কেন আপনি?
আমি তো আমার গানের মতোই! গানের কথার মতোই। কখনো হারিয়ে যাই, অনিয়মে ডুব মারি আবার কখনো ফিরে আসি। স্বভাব তো এমনই।
এ হারিয়ে যাওয়ার কি কোনো মানে আছে?
গানের মতোই বলব, কোনো মানে নেই! হা হা হা... কিছুটা অভিমানেই এ হারিয়ে যাওয়ার স্বভাব। তবে এখন আর নেই। বর্তমানে গানের সঙ্গেই আছি।
সংবাদমাধ্যমও আপনাকে নাগালে পায় না...
আমি ইন্টারভিউ দিই না খুব একটা। আমি মনে করি এটা খামোখা দুজনের সময় নষ্ট করা।
তাহলে আজ?
মাঝে মাঝে উচিত। অনেক দিন পরপর কথা বলি। একই জিনিস বারবার বলতে ভালো লাগে না।
বাংলা ব্যান্ড থেকে কোক স্টুডিও বাংলা, অর্ণব কীভাবে বদলালেন নিজেকে?
একেকটা ক্ষেত্রে একেকরকম। ব্যান্ডের জন্য গান তৈরি একরকম। আবার সিনেমার জন্য গান বানালে তার গল্প মাথায় রেখে গান বানাতে হয়, মিউজিক করতে হয়। আমার কথা সেখানে জায়গা পায় না। আমার থেকে বেরোতে হয়। নিজের গান আবার একান্তই ব্যক্তিগত।
যেসব গান তৈরি করেছেন কখনো কি মনে হয়েছে ‘ধুর কিছুই হয়নি’?
হ্যাঁ, এটা হয়। কিন্তু ক্রিয়েটিভ প্রসেসের কোনো শেষ নেই। তবে একটি পয়েন্টে গিয়ে শেষ করতে হয়। নইলে জিনিস নষ্ট হয়। সময়ের সঙ্গে কাজের প্রাসঙ্গিকতাও খুব দরকার।
লিরিক্সের পাশাপাশি মিউজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন, ফিউশন করছেন...
শান্তিনিকেতনে বেড়ে ওঠার ফলে কমবেশি রবীন্দ্রসংগীত জানা ছিল। আবার ঢাকায় দেখতাম বন্ধুরা কিবোর্ড, গিটার, বিদেশি যন্ত্র বাজাচ্ছে। শান্তিনিকেতনে বাজছে এসরাজ তবলা। তাই যা কিছু শিখেছি তা রবিঠাকুরের গানে, বাউল গানেই ব্যবহার করেছি। সেই থেকেই নতুন ভাবনা।
এগিয়ে কী- গান না আঁকাআঁকি?
গিটার বাজানোটা নিজের থেকে বেশি অন্যদের জন্য। সবার কেমন লাগবে সেটা ভাবি। ছবি আঁকা আমার কাছে ডায়েরির মতো। গান-বাজনায় অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয়। ছবি শুধু আমার বিষয়।
ঘরকুনো অর্ণব কেন কোকস্টুডিও বাংলার দায়িত্বে?
কাজটা যে সময় এসেছিল তখন আমি চাইছিলাম ফিরতে। আসলে কম্পিউটারের সামনে বসে মিউজিক করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম।