শীর্ষ অভিনেতা মোশাররফ করিম। এবার আসছেন ফজলুল তুহিনের ‘বিলডাকিনীর’ মানিক মাঝি আর শরাফ আহমেদ জীবনের ‘চক্কর’-এর তদন্ত কর্মকর্তা মঈনুল হয়ে। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনে - পান্থ আফজাল
‘বিলডাকিনি’ সিনেমায় প্রথমবার প্লেব্যাক...
‘ভালো ভালো লাগে না’ গানটি আমার অনেক আগের লেখা। মাঝে মাঝে আড্ডাতে গানটি গাই। এ সিনেমার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী জেলখানায় একটি গানের প্রয়োজন ছিল। নির্মাতা আমাকে জানানোর পর রাজি হয়ে যাই। এরপর গানটি রেকর্ডিং হয়। গানটির সুরও আমার করা। এ সিনেমায় তিনটি গান রয়েছে। আমি ছাড়া একটি গেয়েছেন নির্মাতা তুহিন-নিশীতা বড়ুয়ার দ্বৈত এবং অন্যটি রূপার কণ্ঠে। এর মধ্যে একটি গানের সংগীতায়োজন করেছেন আশরাফ বাবু।
২৪ জানুয়ারি মুক্তির ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে এখন সিদ্ধান্ত কী?
দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় সিনেমা মুক্তির বিষয়ে বোধহয় নতুন করে ভাবছেন নির্মাতা-প্রযোজক। এখন একটা অস্থির সময় যাচ্ছে। মানুষ হলমুখী নয়। সবকিছু ভেবে সিনেমাটি মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ ঠিক করে জানানো হবে।
শরাফ আহমেদের জীবনের ‘চক্কর ৩০২’-এ অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ মইনুল হিসেবে দেখা গেল...
মইনুল একজন গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক। মূলত খুনের তদন্তের পাশাপাশি মানবিক একটি গল্প এতে উঠে এসেছে। গল্পটি এ তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘিরেই।
কবে মুক্তির পরিকল্পনা?
এটি নির্মাতার ওপর নির্ভর করছে। এখনো মুক্তির ঘোষণা আসেনি। তবে যতদূর জেনেছি রোজার ঈদে মুক্তি।
প্রকাশ পেয়েছে আপনার ‘অন্ধকারের গান’...
এটি ভিকি জাহেদের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। মুকুল চরিত্রে অভিনয় করেছি। আর শাহাদুজ্জামানের ছোটগল্প ‘মহাশূন্যে সাইকেল’ অবলম্বনে তাহুয়া লাভিব তুরার নির্মাণে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি রেজাউল করিমের ভূমিকায়। কাজটি ভালো ছিল।
আর সুমন আনোয়ারের ‘মির্জা’, আশফাক নিপুণের ‘মহানগর সিক্যুয়াল’ আর ফজলুল তুহিনের ‘গাঙকুমারী’?
মির্জা তো অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ‘মহানগর’ নিয়ে আসলে ভালো বলতে পারবেন নিপুণ। তবে ‘গাঙকুমারী’র শুট এখনো কিছু বাকি রয়েছে।
নাটক, সিনেমা, ওটিটি কনটেন্ট সবই কি সমানতালে চলবে?
চলছে তো। খারাপ চলছে না। আমি এভাবে চলতে পছন্দ করি। আমার কাছে মনে হয় না এটা অচ্ছুত, এটাকে বাদ দিতে হবে বা এটাই শুধু করে যেতে হবে। নাটকের বাজেট ওটিটির মতো না হলেও এটিতে এখনো মহৎ কিছু গল্প থাকে। একটা নীতির বা আদর্শের জায়গা থেকে গল্প বলা হয়। হয়তো এখানে অল্প টাকা; কিন্তু বলার চেষ্টা থাকে।
কোন তাগিদে অভিনয় করেন?
আমি অভিনেতা। আমি কাজটা করে আনন্দ পাই। আর এ আনন্দটা আমি সারা জীবন পেতে চাই। ভালো না লাগলে সেটা তো আমি করি না, করতে পারি না। মানুষ আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। এত ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য কি না, জানি না।
‘দর্শক কী চায়’-তার ওপর নির্ভর করেই কি শিল্পীরা কাজটি করে?
আসলে অভিনয় করি তো। শিল্পের ক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয় ওই বিশ্বাস খুব একটা ভালো না। যে আগে থেকেই মনকে বাজারে পাঠানো। দর্শক কী চাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আসলে সৃজনশীলতা ব্যাহত হয়।
নির্মাণে আসবেন?
আমি লক্ষ্যস্থির করে কোনো কাজ করি না। লক্ষ্যস্থির করে দৌড় দেওয়া সেটা আমার জীবনে ঘটেনি।