শাকিব খানকে বলা হয় ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক। প্রায় ২০ বছর ধরে ঢালিউডে চলছে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। এরই মধ্যে বহু নায়কের আনাগোনা হয়েছে। কিন্তু কেউই পায়ের নিচে শক্ত মাটি খুঁজে পাননি। কিন্তু এ সময়ে এসে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে শুরু করেছে। চারদিকে যখন নতুন সিনেমার আকাল, ঠিক তখনই শাকিব খানের পর অন্তত দুজন অভিনেতার নাম শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরে। এদের একজন শরীফুল রাজ, অন্যজন আদর আজাদ।
সূত্র জানাচ্ছে, দুজনের হাতেই প্রায় হাফ ডজনের বেশি সিনেমা। যেগুলো মুক্তি পেলে পাল্টে যেতে পারে ইন্ডাস্ট্রির হিসাবনিকাশ।
পরাণ আর হাওয়া দিয়ে দর্শক হৃদয়ে দাগ কেটেছেন শরীফুল রাজ। কেবল দর্শক হৃদয় নয়, তিনি হানা দিয়েছেন শাকিব খানের ঘরেও। বলা যায়, রাজ অনেকটা নীরবে হানা দিয়েছেন শাকিবের জন্য নির্মাণাধীন পর পর দুটি ছবিতে। সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ সফল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভার্সেটাইল মিডিয়া। শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’ এই প্রতিষ্ঠানেরই নির্মাণ। পরের ছবি ‘সাহেব’-এ শাকিব খানের নাম শোনা গেলেও হুট করে প্রযোজক আরশাদ আদনান জানালেন, ছবিতে অভিনয় করবেন শরীফুল রাজ। যদিও রাজনৈতিক পালাবদল, এরপর ছবিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবু শাকিব খানের ঘরে তো হানা দিয়েছেন রাজ! খানের ডেরায় রাজের হানা এটাই প্রথম নয়, গত বছরই হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘কবি’ সিনেমায় অতর্কিত ঢুকে পড়েছেন রাজ। অথচ ছবিটি করার বিষয়ে সবই চূড়ান্ত ছিল শাকিব খানের। কারণ তার আগে কল্লোল-শাকিবের অমর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল ‘সত্তা’ ছবির সুবাদে। কিন্তু ‘কবি’তে এসে রাজের সুবাদে মুখ থুবড়ে পড়ে সেই বন্ধুত্ব। ২০১৬ সালে রেদওয়ান রনির ‘আইসস্ক্রিম’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে শরীফুল রাজের। এরপর তানিম রহমান অংশুর ‘ন ডরাই’ এ অভিনয় করলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফির ‘পরাণ’ ছবিটি দিয়ে। গত বছর রাজের তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’, মিশুক মুনিরের ‘দেয়ালের দেশ’ ও মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘ওমর’। তিনটি ছবিতে তিন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন রাজ। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, শরীফুল রাজ যদি তাঁর কাজের ব্যাপারে আন্তরিক থাকেন, তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যতে ‘বাজি’ ধরা যাবে। বর্তমানে রাজের হাতে বেশ কয়েকটি ছবির কাজ ও নতুন প্রস্তাব রয়েছে। এই তো গেল রাজ কাহিনি। এবার আসা যাক এ প্রজন্মের নায়ক আদর আজাদের গল্পে। অল্প দিনের ক্যারিয়ার তাঁর। তবে যে কয়টি ছবি করেছেন, তাতে আঁচ করা যায়, নিজেকে তিনি অ্যাকশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রায় সক্ষম হয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের এক সম্ভাবনাময় চিত্রনায়ক আদর আজাদ। ২০২২ সালে সৈকত নাসির পরিচালিত ‘তালাশ’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। বুবলীর বিপরীতে এই সিনেমা দিয়েই নিজের জাত চিনিয়েছেন আদর। তাঁর সাবলীল অভিনয় প্রশংসিত হয় সর্বমহলে। চ্যানেল আইয়ের রিয়েলিটি শো ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম বিজয়ী আদর শুরুতে মডেলিং ও ছোট পর্দায় কাজ করলেও টার্গেট ছিল সিনেমা। তালাশের পর মাহিয়া মাহির বিপরীতে মুক্তি পায় ‘যাও পাখি বলো তারে’। সিনেমার পর মালেক আফসারীর মতো নির্মাতারাও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আদরকে। এরপর আবারও বুবলীর বিপরীতে লোকাল নিয়ে হাজির হন আদর। ওই অর্থে ব্যবসাসফল ছবি এখনো উপহার দিতে পারেননি আদর আজাদ। কিন্তু লোকাল মুক্তি পাওয়ার পর বাণিজ্যিক সিনেমার নায়কের যে খরা ঢালিউড অনুভব করছিল সেটা কাটতে যাচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। নাচ-গান আর অ্যাকশনের কমপ্লিট প্যাকেজ হিসেবে আদরের মধ্যে অনেকই খুঁজে পান আগামীর সুপারস্টারকে। এরপর গত বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় আদর আজাদ অভিনীত ‘লিপস্টিক’ সিনেমাটি। সিনেমায় আদরের নায়িকা পূজা চেরী। এই সিনেমায় আদর আজাদ দেখিয়েছেন মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার সফল নায়ক হওয়ার মতো সব গুণই তাঁর মধ্যে আছে।
শরীফুল রাজ আর আদরের মধ্যে একটা বিষয় স্পষ্ট। শরীফুল রাজ যেখানে একটু ভিন্নধারার সিনেমায় নিজেকে মেলে ধরতে চাইছেন, আদর সেখানে ঠিক তার উল্টো। নিজেকে ম্যাসি হিরো হিসেবেই মেলে ধরতে চান আদর। চলতি বছরের প্রথম দিনেই ‘টগর’ নামের নতুন সিনেমার অ্যানাউন্সমেন্ট টিজার প্রকাশ করে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। আলোক হাসান পরিচালিত অ্যাকশনধর্মী এই সিনেমায় আদর আজাদের বিপরীতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। ‘টগর’-এর টিজার যেন আঁচ দিল ২০২৫ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াবেন এই নায়ক। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে টগরের শুটিং শুরু হওয়ার কথা। ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে নির্মাণ করা হচ্ছে সিনেমাটি। তবে ঈদুল ফিতরের দৌড়েও পিছিয়ে নেই আদর। এর মধ্যেই শেষ করেছেন ‘পিনিক’ সিনেমার শুটিং। জাহিদ জুয়েল পরিচালিত ছবিটিতে আদরের নায়িকা শবনম বুবলী। সিনেমাটি ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়ার কথা। পিনিক, টগর ছাড়া অন্য কোনো প্রজেক্ট বিস্তারিত জানা না গেলেও আদর জানিয়েছেন চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সিনেমার জন্য তার কোনো শিডিউল নেই। হাতে রয়েছে আরও একাধিক প্রস্তাব। তবে নিজেকে কারও বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে রাজি নন আদর আজাদ। দর্শকের পছন্দে নিজের স্বকীয় অবস্থান তৈরিতেই বদ্ধপরিকর বলে জানালেন তিনি।
আরিফিন শুভ, সিয়াম, নিরব, ইমন, সায়মনদের ছাপিয়ে প্রযোজক পরিচালকরা এখন ঝুঁকছেন আদর আজাদ ও শরীফুল রাজের মতো তরুণ তুর্কিদের দিকে। অন্যদিকে শাকিব খান নিজের স্বকীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন নিপুণভাবে। এই তরুণদের মধ্যে কেউ কি পারবেন শাকিবের পর সেরা হয়ে উঠতে। সেটা সময়ই বলে দেবে।