নেত্রকোনা শহরের আরামবাগে নিজ ঘরে মাজেদা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে মেয়ে ফারিয়া সুলতানা ইতি এসে দরজা চাপানো ঘরে মায়ের লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরি করতে এসেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। নিহত বৃদ্ধার কানের দুল ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে চোর।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের আরামবাগ এলাকায় পুরনো তথ্য অফিসের বাসায় মৃত আরজান আলীর স্ত্রী মাজেদা বেগম একাই থাকতেন। তাদের তিন মেয়ে ঢাকার বাইরে স্বামীদের বাড়িতে থাকেন। ঈদের ছুটিতে ছোট মেয়ে ফারিয়া সুলতানা ইতি ও স্বামী মো. আশরাফুল ইসলাম ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নেত্রকোনায় আসেন শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে। এর আগে সকাল থেকে মায়ের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তারা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করে ঘরের বাইরে থেকে দরজা চাপানো দেখে তারা ঘরে ঢুকে বিছানায় মায়ের গামছা দিয়ে গলা প্যাঁচানো লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের ধারণা, চুরি করতেই মাজেদা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ, তার কানের দুল ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। এছাড়া আলমারির দরজাও খোলা ছিল।
নিহতের নাতি আবিদ জানান, "আমার নানী গোসলে বা কাজে গেলেই পাশের একটি গ্যারেজের কয়েকটা ছেলে ঘরের ভেতর ঢুকতে চাইতো। এরা চুরির জন্য প্রায় সময় উৎপাত করতো। নানুর পেনশনের টাকা তুলে আনলেও ঘুরঘুর করতো।"
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাজী শাহনেওয়াজ জানান, "আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। নিহত বৃদ্ধার মোবাইল ফোন ও কানের দুল পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।"
বিডি প্রতিদিন/আশিক