বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী পৌষমেলা। গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এ মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়দৌড়। প্রতিদিন ঘোড়দৌড় এবং মেলায় ঘুরতে লাখো মানুষের ঢল পড়েছে।
গত বুধবার থেকে মেলাটি শুরু হয়। শেষ হবে রবিবার সন্ধ্যায়। ঘোড়দৌড় দেখতে শনিবার দুপুরে জমায়েত হয় লাখো মানুষ। দুপুর ৩টার পর পরই মেলায় আগমন ঘটে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার দর্শনার্থীদের।
এদিন নানা সাজে সজ্জিত হয়ে টগবগিয়ে খুরের আওয়াজ তুলে দৌড়ায় রঙে-বেরঙের ঘোড়া। উৎসবমুখর পরিবেশে ঘোড়ার দৌড় ও সাওয়ারীদের রণকৌশল উপভোগ করেন গ্রামীণ জনগণ।
জানা যায়, শীত উপলক্ষে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বেশ কয়েকটি মেলা বসে। এগুলো হলো-ফুলবাড়ি ইউনিয়নের আমতলী সুখদহ মেলা, চর ডোমকান্দি পৌষমেলা এবং ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ছাইহাটা পৌষ মেলা। সাধারণত পৌষ মাসে শীতের আমেজে মেয়ে জামাই এবং আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দিতেই এসব মেলার আয়োজন। এ লক্ষে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চর ডোমকান্দি গ্রামে বসেছে পৌষমেলা।
গত বুধবার মেলাটির উদ্বোধন করা হয়। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়দৌড়। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ঘোড়দৌড় শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যার আগে। মেলার পূর্ব পাশে একটি বিশালাকার ধানক্ষেতের মাঠে এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে মাঠের চারদিকে লাখো দর্শকের সমাগম ঘটে।
মাঠে আল্লাহর দান, সালমান রাজ, কাটিং মাস্টার, আল্লাহ ভরসা, রাহিম টুয়েন্টিফোর, অমিদ্র সুজন, মহাজন, সুজন অগ্নি, হঠাৎ আক্রমণ, শাহ জালাল, বিজলী রাণী, কিং কোবরা, নাগরাজ প্রভৃতি রকমারি নামের ঘোড়া দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে হাজারো মানুষের সামনে। ঘোড়া যখন চার পা তুলে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে তখন নয়নাভিরাম দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আর সেই দৃশ্য শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সের নারী-পুরুষ হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মেলায় বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ খেলনা এবং বাহারি খাবারের পসরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও মেলায় কসমেটিক, মাছ, মাংস, ছোটদের খেলনা, মাটির লোহার এবং কাঠের তৈরি তৈজসপত্র, রকমারি ধরনের মিষ্টি, ফলসহ নানা ধরনের দোকান বসেছে। প্রতিটি দোকানেই রয়েছে উপচে পড়া ভিড়। মেলায় চড়কি, নৌকা, রেলগাড়ী প্রভৃতি খেলনাও চলছে সমানতালে।
মেলাটির উদ্বোধন করেন সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু। উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম।
ঘোড়দৌড় দেখতে আসা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার জাহিদুল ইসলাম জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা ঘোড়দৌড়। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে তিনি মেলায় এসেছেন। গ্রামীণ জনপদে এই ঘোড়ার দৌড়কে ঘিরেই সাধারণ মানুষ মেতে ওঠে অপার আনন্দে। বিপুল সংখ্যক দর্শক ভিড় করে এই প্রতিযোগিতায়। তাই আয়োজকরাও দ্বিগুণ উৎসাহে প্রতিবছর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন।
মেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ দুলাল জানান, পৌষ মাস উপলক্ষে গত ৮ বছর আগে থেকেই এ মেলা আমাদের গ্রামে বসে। মেলা উপলক্ষে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই আত্মীয়-স্বজনদের আগমন ঘটেছে। বগুড়ায় গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া এ ঐতিহ্য খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে সব বয়সের লাখো মানুষ ছুটে আসেন। এ খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আনন্দ ও উৎসবে মেতে উঠে উৎসুক জনতা। গ্রামে গ্রামে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। এলাকার প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে জামাই ও অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় নানা রকমের পিঠা-পায়েশ ও যমুনা নদীর দেশীয় মাছ দিয়ে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই