প্রকাশনার দিক থেকে কবিতার বই সব সময় এগিয়ে থাকে আর বিক্রিতে পিছিয়ে থাকে। এবারের অমর একুশে বইমেলাও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারের মেলায়ও প্রকাশ সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ। পাশাপাশি বিক্রিতে পিছিয়ে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ। খ্যাতিমান কবিদের পাশাপাশি নবীন কবিদের বইও স্টল এবং প্যাভিলিয়নের শোভা বর্ধন করেছে। প্রকাশিত ও প্রকাশের অপেক্ষায় থাকাসহ এবারের মেলায় কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় কর্মরতরা। এবার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- জোনাকী প্রকাশনী এনেছে জয়িতা শিল্পীর ‘চায়ের পেয়ালায় চুমুক’, ঐতিহ্য এনেছে হেলাল হাফিজের ‘৫০ প্রেমের কবিতা’, মুহাম্মদ আবু বকরের ‘হোগলা বনের স্বর’, অনন্যা এনেছে শিহাব শাহরিয়ারের ‘ব্রহ্মপুত্র দাঁড়াও’, আবদুল হাই শিকদারের ‘আমরা মানুষ আমরা এসেছি’, কাকলী এনেছে হাসান হাফিজের ‘ভালোবাসা তার ভাষা’ ও মমতা মজুমদারের ‘তুমি শুধু আমার হয়ে থেকো’, অন্যপ্রকাশ এনেছে খালেদা আক্তার রিনুর ‘যে অনিন্দ্য বিরহ আমার’, মালেক মুস্তাকিমের ‘আধেক জীবন আধেক ধুলো’, সাম্যনাথী ভৌমিকের ‘শরশয্যা’, আগামী এনেছে ফরহাদ মজহারের ‘আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ বিপ্লবের সামনে’, মুহম্মদ মাহবুব উল ইসলামের ‘বরাদ্দের শূন্য ভাণ্ডে’, কথাপ্রকাশ এনেছে মতিন রায়হানের ‘দায় ও দহনের বর্ণমালা’, আতাউল হক সিদ্দিকীর ‘সনেটসমগ্র’ ও দেশের বিভিন্ন সময়ের ৫০ জন নারী কবির বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে অনূদিত ‘৫০ বাংলাদেশি ওমেন পোয়েটস ইন ইংলিশ’ শীর্ষক কাব্য সংকলন; এ বইটির কবিতা বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন নবীনা দাশ এবং সম্পাদনা করেছেন আলম খোরশেদ, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ এনেছে সৈকত হাবিবের ‘কাব্য সংগ্রহ’, সায়ীদ আবুবকরের ‘নরক নগরে’, অন্ত মিলনের ‘চোখের ভেতরে নূহের প্লাবন’, জাগৃতি প্রকাশনী এনেছে মাজহার সরকারের ‘ঝিকটি ফুলের ক্ষমতা’, ঝর্ণা রহমানের ‘দেহের মাদল’, রোদেলা এনেছে শওকত হায়দার খানের ‘অন্তরে দ্বৈরত’, বিদ্যাপ্রকাশ এনেছে মিনহাজুল হকের ‘হরিণ ঠেকানোর দিন’, বাতিঘর এনেছে মাহবুব কবিরের ‘ওপরে ওঠার সিঁড়ি’, রাত্রি প্রকাশনী এনেছে এম এইচ মাহির ‘প্রেম বিদ্রোহ’, মাওলা ব্রাদার্স’ এনেছে লায়লা ফারজানার ‘নীল ইগুয়ানা’, একাডেমিক প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বের করেছে জোহা তালুকদারের ‘প্রেম কাঁদে অন্তরালে’, শিরীন পাবলিকেশন্স এনেছে মফিজ আল মামুনের ‘রক্ত স্রোতের মহাপ্লাবন’, দি রয়েল পাবলিশার্স এনেছে শাওন আসগরের ‘নির্বাচিত কবিতা’, লেখাচিত্র এনেছে সাবরিনা আক্তার শ্যামা ও মো. ইমদাদুল হকের যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘সীমাহীন ভালোবাসা’, ও নুশরাত রুমুর ‘অন্য সৈকতে’, নব সাহিত্য প্রকাশনী এনেছে রাকিব হাসানের ‘প্রেমের তরী’, গাইডেন্স প্রকাশনী এনেছে লুবনা চর্যার ‘রংগুলোর পুনর্জন্ম হোক’, মৃদুল প্রকাশনী এনেছে ইশতিয়াক আলভীর ‘অবসেশন’, দুলাল ভুঁইয়ার ‘শব্দগুচ্ছ’, আসাদুজ্জামান বর্ণচাষীর ‘ধানি আঁচলের আত্মকথন’, পা ুলিপি প্রকাশনী এনেছে লোকমান হোসেন পলার ‘ধবধবে সাদা কথামালা’, পুথিপ্রকাশ এনেছে জাহানারা হকের ‘মায়াবী উপত্যকা’ ইত্যাদি। প্রকাশকদের আগ্রহ কম থাকলেও প্রকাশ সংখ্যায় কবিতার বই কেন এগিয়ে এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন পাবলিকেশন্সের শেখ শাহারুল আলম বলেন, কম সময়ে কবিতার বই প্রকাশ করা যায় বলে অনেকে নিজের শখ মেটানোর জন্য প্রকাশকদের পেছনে ধরনা দেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, নবীন অনেক কবি ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেই কবি হন। প্রকাশকরা নিজের আর্থিক ক্ষতি করে কেন কবিতার বই বের করবেন।
নতুন বই : গতকাল ১৬তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১০৪টি। এ পর্যন্ত মেলায় মোট নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ১ হাজার ৫৩১টি।
মূল মঞ্চ : বিকালে বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জহির রায়হানের সাহিত্যকর্মে ঐতিহাসিক ঘটনার ‘বিচার’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহল আহমদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মশিউল আলম এবং আহমাদ মোস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করেন মাহবুব হাসান। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন আজহারুল ইসলাম রনি এবং ডা. মোহাম্মদ হেলাল উদ্?দিন। একক সংগীত পরিবেশন করেন দেবিকা রানী পাল, জাহিন খান নেজাম, আনিলা আমীর লামী, সুমন চন্দ্র দাস, মো. টিপু চৌধুরী, মিতালী সরকার এবং ডালিয়া সুলতানা।