নারী বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ সামান্যর জন্য হাতছাড়া করেন নিগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি জিতলেই সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে পারত। কিন্তু ক্যারিবীয় নারীদের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় এখন বাছাইপর্ব খেলতে হচ্ছে। বাছাইপর্ব খেলতে নিগার সুলতানার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানে। সেখানে ৯ এপ্রিল শুরু হবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। ১০ এপ্রিল নিগার বাহিনীর প্রথম ম্যাচ, প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বাছাইপর্ব। খেলাগুলো হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম ও লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এলসিসিএ) গ্রাউন্ডে। ছয় দলের বাছাইপর্ব থেকে শীর্ষ দুই দল খেলবে বিশ্বকাপ। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে স্বাগতিক ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড। বাছাইপর্ব খেলতে নিগার বাহিনী আজ থেকে অনুশীলন শুরু করবে। গতকাল বিশ্রামে ছিলেন। বাংলাদেশের বাকি ম্যাচগুলো ১৩ এপ্রিল আয়ারল্যান্ড, ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ড, ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে।
নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আম্পায়ারিং করবেন বাংলাদেশের দুই আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল ও সাথিরা আক্তার জেসি।
নারী বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ১৯৭৩ সালে। বাংলাদেশ প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে। সেবার আট দলের মধ্যে সপ্তম হয়েছিল নিগার বাহিনী। সেবারও বাছাইপর্ব টপকে জায়গা করে নিয়েছিল চূড়ান্ত পর্বে। করোনাভাইরাসের জন্য ২০২১ সালে জিম্বাবুয়েতে সেবার বাছাইপর্ব পুরোপুরি হতে পারেনি। নিগাররা বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পান বাছাইপর্বের দলগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকায়। বাছাইপর্বের দলগুলোর মধ্যেও এবার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে বাংলাদেশ। ছয় দলের মধ্যে এর আগে কখনোই স্কটল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেনি বাংলাদেশ। পরিচিত প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। ছয় দলের বাছাইপর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্বে খেলবে চার দল। রবীন লিগ পদ্ধতিতে পরস্পরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। পাঁচটি করে ম্যাচ খেলবে এক একটি দল। চূড়ান্ত পর্বে খেলতে একটি দলকে কমপক্ষে চারটি ম্যাচ জিততে হবে। তিন ম্যাচ জিতলেও সম্ভাবনা থাকবে। তবে রানরেটের জটিল মারপ্যাঁচে পড়তে হবে।
বাছাইপর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্বে খেলতে বাংলাদেশের সঙ্গে ফেবারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজও। ক্যারিবীয় নারীদের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজ হেরেছিল নিগার বাহিনী। আইসিসির বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সাত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছয়ে, থাইল্যান্ড ৯, পাকিস্তান ১০, আয়ারল্যান্ড ১১ ও স্কটল্যান্ড ১২ নম্বরে। থাইল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কখনই ওয়ানডে খেলেননি নিগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫টি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯টি এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে ১১টি। র্যাঙ্কিং ও পরিসংখ্যানের বিচারে বাংলাদেশ অন্যতম ফেবারিট বাছাইপর্বে।