চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার চসিক কার্যালয়ে প্রকৌশল, পরিচ্ছন্ন বিভাগ ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে জলাবদ্ধতা বিষয়ক সমন্বয় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেমসহ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
চসিক মেয়র বলেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজ নিজ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার কারণগুলো চিহ্নিত করবেন। প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিশজন করে শ্রমিক দিয়ে ১২০ জনের ছয়টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো সার্ভিস ড্রেনগুলোর ময়লা পরিষ্কারে কাজ করবে। প্রতিদিন এই টিমগুলোর কাজের অগ্রগতি ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, যে সমস্ত কমিউনিটি সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, মার্কেটসহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। ইতোমধ্যে ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা সেই তালিকা ধরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো এবং জরিমানা করা হবে।
চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান সরকার পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থ সুপরিকল্পিতভাবে ব্যয় করতে হবে।
চসিক মেয়র আরও বলেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড জুড়ে বিভিন্ন খাল-নালা সংলগ্ন স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে। এজন্য যথাযথ এলাকার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। যেহেতু সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে, তাই তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এছাড়া, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সভা করতে হবে।
যেসব স্থানে স্কেভেটর ব্যবহার প্রয়োজন, সেখানে স্কেভেটর ব্যবহার করতে হবে এবং যেসব স্থানে ম্যানুয়ালি খনন প্রয়োজন, সেখানে শ্রমিক নিয়োজিত করতে হবে। পরিচ্ছন্ন শ্রমিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে, যা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ায়। শহরের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়াই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। খালের সীমানার মধ্যে অবৈধ ভবন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা কমে গেছে। তাই পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা এবং খাল সংস্কারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
সভায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং খাল-নালায় প্রচুর ময়লা জমে থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। এটি জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ।
এছাড়া, অবৈধ বাজার বসানোর কারণে পরিষ্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় নগর জুড়ে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কিছু ওয়ার্ডে জনবল সংকট রয়েছে, তাই জরুরি ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিতে হবে।
কর্মীদের উপস্থিতি এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। যেকোনো প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সঠিক তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।
আমরা সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পগুলোকে আরও কার্যকর ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারবো।
বিডি প্রতিদিন/আশিক