ফুলের মৌ-মৌ ঘ্রাণে মাতোয়ারা চারদিক। ক্যামেলিয়া, হলিহক, স্নোবক, নেসটিয়াম, লিলিয়াম, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১৩৬ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহে সেজেছে ডিসি পার্ক। এক পলকে যে কারো হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে ফুলের এই রাজ্যে।
সাগরপাড়ের এই ফুলের রাজ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন সৌন্দর্য পিপাসুরা। চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে বন্দর-ফৌজদারহাট টোল রোড সড়ক ধরে কিছু দূর গেলেই চোখে পড়বে ফুলের এই সমাহার। সাগর পাড়ের ফুলের ঘ্রাণ নিতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুল উৎসবে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সাধুবাদ জানাচ্ছেন, জেলা প্রশাসকের এমন আয়োজনের।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ডিসি পার্কে মাসব্যাপী ফুল উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ১৩৬ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল দিয়ে এ উৎসবকে সাজানো হয়েছে। সুস্থ পরিবেশে মানুষ যাতে বিনোদন উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা ডিসি পার্ককে নির্বাচিত করেছি। প্রকৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়া, বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করে দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি কোলাহলমুক্ত পরিবেশে মানুষ যাতে কিছুটা একান্ত সময় কাটাতে পারে সে আয়োজন এটি।
তিনি বলেন, ডিসি পার্কতে সব সময় উৎসবমুখর করে তোলার জন্য সারা বছর আমরা নানা ইভেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি। তারই অংশ হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে পর্যন্ত ফুল উৎসব থাকবে। পাশাপাশি আগামী এই পার্কে ওয়াকওয়ে, কমিউনিটি সেন্টারসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষও কোলাহলমুক্ত একটি পরিবেশ পাবে।
পরিবার নিয়ে ফুল উৎসবে আসা চাকরিজীবী জান্নাতুল নাঈম বলেন, চট্টগ্রাম শহরে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরার মতো কোনো স্থান নেই। সারাদিন শিশুরা ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকে। আগে যে কয়েকটি পার্ক থাকলেও তা এখন আর নেই। এমন সময়ে ডিসি পার্ক ফুল উৎসবের আয়োজন করেছে। ফুলের রাজ্যে বাচ্চারা বেশ আনন্দ উপভোগ করছে। ইট-পাথরের নগরে থাকতে থাকতে সবার একগুয়েমি চলে এসেছে। ফুল উৎসবের মাধ্যমে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। নানা রকম বাহারী ফুলের এই উৎসব বেশ দারুণ। এমন উদ্যোগের জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাতেই হবে।
জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত ডিসি পার্কে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ফুল উৎসব। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানের উদ্যোগে গত ৪ জানুয়ারি এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। এবারের উৎসবে ১৩৬ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ ঘটনা হয়েছে। যশোর, রংপুর, ঢাকা, দিনাজপুর, বগুড়াসহ সারাদেশ থেকে আনা হয়েছে এসব ফুল। এবার উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ভাসমান ফ্লাওয়ার গার্ডেন। বেশির ভাগ বিদেশি প্রজাতির শীতকালীন ফুল। পাশাপাশি জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের সব নিহতদের উদ্দেশে, তাদের স্মরণে স্থাপন করা হয়েছে ‘গণঅভ্যুত্থান কর্নার’।
মাসব্যাপী আয়োজনে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল, গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, ফুলের সাজে একদিন, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, মুভি শো, ভায়োলিন শো ও পুতুল নাচ।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবার অন্তত ১২ লাখ মানুষ মাসব্যাপী এই মেলার সৌন্দর্য উপভোগ করবে। গতবার এই মেলাতে দর্শনার্থী ছিল প্রায় ৯ লাখ। পার্কের কাউন্টার ছাড়াও দর্শনার্থীরা অনলাইনে টিকিট কেটে ফুল উৎসবে যোগ দিতে পারবেন। এবার টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই