শেরপুর জেলার পাহাড়ি বনাঞ্চলে বন্য হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কিভাবে এই দ্বন্দ্ব দূর করে পাহাড়ি জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় সেই লক্ষ্যে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীবরদী শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও এলাকাবাসীর মাঝে গণসংযোগ করা হয়েছে।
মানুষ ও বন্য হাতির দ্বন্দ্ব তখনই শুরু হয় যখন বন্য হাতি লোকালয়ে চলে এসে গাছপালা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমির ক্ষতিসাধন করে। মানুষ তার আত্মরক্ষার কারণে বন্য হাতি হত্যা করে থাকে। এই হত্যার কারণে দিন দিন বন্য হাতি বিলুপ্তির পথে। মানুষ ও বন্য হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন শুধু হাতি রক্ষা নয়, একই সঙ্গে বন্য প্রাণি সংরক্ষণ ও মানবিক ইস্যু।
হাতি তৃণভোজী প্রাণিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণি। একটি হাতি দিনে ১৫০ কেজি ঘাস এবং ১৯০ লিটার পানি পান করে থাকে। এই কারণে হাতি তার খাদ্য সংগ্রহের জন্য বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আমরা হাতির বিচরণ ক্ষেত্রে বসবাস,খামার, রাস্তাঘাট ও কৃষি কাজ করে থাকি। যা হাতির চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং হাতির অভয়াশ্রমগুলি ছোট হতে থাকে। অভয়াশ্রমের খাদ্যে ঘাটতি দেখা দিলে হাতি লোকালয়ে বেরিয়ে পড়ে এবং ফসলের ক্ষতি করে। আর তখন থেকেই শুরু হয় হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব।
এক তথ্য মতে- শ্রীলঙ্কায় প্রতিবছর ২০০ এর মতো এবং ভারতে ১০০ এর বেশি হাতি মারা যায়। বাংলাদেশের গত ১৪ বছরে ৬৬টি হাতি মারা যায় এবং ২৩৬ জন মানুষ মারা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে- ১৯৫০ সালের দিকে বাংলাদেশ হাতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। বর্তমানে হাতির সংখ্যা ২২৮ থেকে ৩৬৭টিতে। হাতি আর মানুষের দ্বন্দ্ব দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এ থেকে পরিত্রানের জন্য আমাদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
প্রথমত- পূর্ব সতর্কতার ব্যবস্থা করা, যাতে হাতি এলেই সবাই আগে জেনে যায়। দ্বিতীয়ত- হাতি যে এলাকা দিয়ে চলাচল করে সে পথে হাতির পছন্দের গাছ লাগানো যেন এসব গাছপালাতেই হাতির খাবার হয়ে যায়, বাড়ি কিংবা ফসলের ক্ষেতে আসার প্রয়োজন হয় না। তৃতীয়ত- স্থানীয়দের মাধ্যমে একটি দল গঠন করা যার কাজ হবে হাতির দেখা মাত্রই তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মোট কথা হাতির সংখ্যা মানুষের কারণেই কমে যাচ্ছে। মানুষের প্রয়োজনে হাতিকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। সেই জন্য হতদরিদ্রদের আয় রোজগার বাড়ানো ও আবাসস্থল যেমন দরকার, তেমনি দরকার হাতির প্রয়োজনীয় খাবার ও আবাসস্থল।
শুক্রবারের এই মানববন্ধন ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সহ-সভাপতি কবি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান ফরহাদ ও ক্রিড়া সম্পাদক শফিউল আযম তুহিন, সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান লাভলু, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধ ও শ্রীবরদী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ তারেক রানা, দৈনিক নতুন সময়ে জেলা প্রতিনিধ রাকিবুল হাসান খোকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণ। গণসংযোগের সময় মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হয় ও বন কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ