বিদায় নিচ্ছে শীত। শেষ মুহূর্তে- শীতের জড়তা ভেঙে প্রকৃতিতে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। নানা রঙে-রূপে সেজে উঠছে চারপাশ। বাহারি সব ফুলের সমাহার যেন রঙের বৃষ্টি নামিয়েছে। গাছে গাছে পাখির কুহুকাকলি মর্ত্যে এনে দেয় স্বর্গীয় অনুভূতি। তাই তো বসন্ত এলে আন্দোলিত মনের মাঝে চলে অন্যরকম এক আনন্দের স্রোতধারা। প্রকৃতির যখন এত এত আয়োজন তখন উৎসব-পার্বণের এই দেশে বসন্ত বরণের পর্বটা থাকে অনেকটাই ঘটা করে। দিন দিন এই উৎসবের চাকচিক্য বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। নানা অনুষ্ঠান আর রীতি পালনের মধ্য দিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন বরণ করে নেওয়া এখন আমাদের উৎসবপ্রেমী হৃদয়ের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ঋতুকে বরণ করে নিতে তাদের সাজপোশাকেও থাকে ব্যাপক উৎসাহের প্রকাশ।
শুধু কী তাই! ভালোবাসা দিবসে সবার মনে বয়ে যায় আবেগিক জোয়ার। তাৎপর্যময় এই দিনের ইতিহাস সাক্ষী দেয় প্রেমিক-প্রেমিকার অনন্য ভালোবাসাকে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের মূল নায়ক-নায়িকাকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিতে ভোলে না এ যুগের প্রেমিকযুগল। আর তাইতো কত শত আয়োজন।
এ উৎসব সামনে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলো সাজে বর্ণিলভাবে। তাদের আয়োজনে থাকে অসাধারণ ডিজাইন আর নজরকাড়া রঙের পোশাক। বসন্ত আর ভালোবাসার পোশাকে সেজে উঠেছে- ফ্যাশন হাউসগুলোও...
বসন্তের বাসন্তী পোশাক
একটা সময় ছিল, যখন বসন্তের পোশাক বলতে শুধু হলুদ রংই প্রাধান্য পেত। তবে যুগের সঙ্গে এসেছে পরিবর্তন। একটু চিন্তা করে দেখুন, প্রকৃতি কিংবা ফুলে কি শুধু এক হলুদ রংই আছে? তবে শুধু হলুদই কেন পাবে প্রাধান্য? এ ছাড়াও তো রয়েছে কত রং। এই যে ধরুন গাছের পাতার সবুজ, কলা পাতার হালকা সবুজ, শিউলিবোঁটার উজ্জ্বল কমলা আবার নীল বা সাদা আকাশ। ফাল্গুন তাই হতেই পারে সব রঙে একাকার। সেটিই হচ্ছে। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা জানান, ফাল্গুন এখন শুধু এক হলুদের মধ্যে নেই। প্রকৃতির সব রঙের উপস্থাপন হচ্ছে পোশাকে। তার অন্যতম কারণ, হরেকরকম রঙের মিশেল এখন পছন্দ করছে সবাই। পোশাকের সঙ্গে সাজেও উঠে আসছে প্রকৃতির রং।
সব ছাপিয়ে যদিও হলুদ-বাসন্তী রঙের প্রাধান্য থাকবেই। যেহেতু এখন ফুলের মৌসুম, তাই পোশাকে ফুলেল মোটিফ পছন্দ করবেন অনেকেই। নিজস্ব উইভিং ডিজাইনে সুতি, লিনেন, জর্জেট, সিল্ক ও ভয়েল কাপড়ের সংমিশ্রণে নতুনের ছাপ আনা হয়েছে। পোশাকভেদে অবশ্য নকশার ভিন্নতা হয়েই থাকে। মেয়েদের পোশাকে যেমন কাজ ফুটিয়ে তোলা হয়, তেমনটা পাঞ্জাবি, ফতুয়া কিংবা শিশুদের পোশাকে উঠে আসতে হবে এমন নয়। নকশা করার ক্ষেত্রে হ্যান্ডপেইন্ট, স্কিন পেইন্ট, ব্লক ছাপা ইত্যাদি বেশি আমলে আনছেন নকশাকারেরা।
ভালোবাসার রঙে রাঙানো ভূষণ
শুধু লাল পোশাক কেমন যেন বেমানান। কিংবা শুধু এক রঙে খুবই একঘেয়ে। তাই সাধারণত লালকে আরও বেশি ফুটিয়ে তুলতে সাথী হিসেবে নীল, নেভি ব্লু, বেগুনি, সাদা, হলুদ, অফ হোয়াইট ইত্যাদি রং ব্যবহার করা হয়। এসব রং ব্যবহৃত হতে পারে শাড়ির পাড়, আঁচল থেকে শুরু করে কামিজ এবং পাঞ্জাবির হাতায়। এতে বেশ কালার কন্ট্রাস্ট হয়। দেখতেও অনেক ভালো লাগে। আবার পোশাকের রঙে বৈচিত্র্য চান অনেকে। তখন লাল ঘেঁষে বিভিন্ন রং, যেমন মেরুন, গোলাপি, ক্রিমসন এসব রংও উঠে আসে তালিকার শীর্ষে। ভালোবাসা দিবসের পোশাকের সবচাইতে রোমাঞ্চকর ব্যাপার হলো- যুগল পোশাক। এখন ট্রেন্ডটা খুব চোখে পড়ে। তাই ছেলে এবং মেয়েদের একইরকম পোশাক নকশা করে থাকে ফ্যাশন হাউস এবং ব্র্যান্ডের নকশাকারেরা। পোশাকগুলো মূলত হয়ে থাকে শাড়ি এবং পাঞ্জাবি। তবে একটু ক্যাজুয়াল লুকের জন্য টপস কিংবা কুর্তির সঙ্গে, ফতুয়া কিংবা টিশার্টের যুগলবন্দিও দেখতে পাওয়া যায়।
পোশাকভেদে ফ্যাশন হাউস এবং লোকাল দোকানে দামে ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক খুঁজতে ঢুঁ মারতে হবে বিশ্বরঙ, রঙ বাংলাদেশ, খুঁত, আড়ং, দেশাল, বিবিয়ানা, লাল সবুজ, কে ক্রাফট, লা রিভ, সেইলর, অঞ্জনস ইত্যাদি ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে।