ঐতিহ্যের একটি নাম রংপুর টাউন হল। এই হলকে ঘিরে এক সময় গড়ে ওঠে সংস্কৃতি চর্চার পাদপীঠ। এই টাউন হলের আগের নাম রংপুর নাট্য সমাজ গৃহ অর্থাৎ টাউন হলের আড়ালে নাট্য সমাজ গৃহ। বরেণ্য ব্যক্তিদের পদচারণে এক সময় মুখর ছিল টাউন হল। এখনো ঐতিহ্যের বাতি জ্বালিয়ে যাচ্ছে হলটি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই হলটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী টর্চার ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ১৮৯১ সালে কাকিনার রাজা মহিমা রঞ্জন রায় রংপুরের উৎসাহিত নাট্য সমাজকে একটি রঙ্গশালা প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ বিঘা ৩ কাঠা জমি দান করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম দেন ‘রংপুর নাট্য সমাজ গৃহ’। ১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ সরকারের ভারত সচিব দ্বারা জমির টুকরাটি আরডিএর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখানে মঞ্চস্থ প্রথম নাটকটি ছিল মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’। তবে কারও কারও মতে, এখানে মঞ্চস্থ প্রথম নাটকটি ছিল রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত ‘কুলিনকুলসর্বস্ব’। এই টাউন হল প্রাঙ্গণে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থাগার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি রয়েছে। কলকাতার বাইরে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ এর প্রথম শাখা ছিল রংপুর সাহিত্য পরিষদ টাউন হলের পাশে। টাউন হলে প্রায় প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অথবা আলোচনা অনুষ্ঠান হতো। এখানে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, তুলসী লাহড়ির মতো ব্যক্তিদের পদচিহ্ন পড়েছে। শত বছরের বেশি সময় ধরে রংপুরের সংস্কৃতিকে ধারণ করছে টাউন হলটি।
রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টাউন হলটির যেমন অনেক আলোকিত অধ্যায় রয়েছে। তেমনি আলোর নিচে অন্ধকারের মতো এর রয়েছে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তা হলো- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী টাউন হলকে বানিয়েছিল কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প অর্থাৎ টর্চার ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করেছিল। মুক্তিকামী নিরপরাধ বাঙালিদের ধরে এনে এখানে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। বাঙালি রমণীদের ধরে এনে আটকে রেখে দিনের পর দিন তাদের ধর্ষণ করা হতো। পরে একসময় তাদের হত্যা করা হতো।