চট্টগ্রাম রেলওয়ে জাদুঘরে আছে প্রাচীন আমলে কয়লার ইঞ্জিনের রেলগাড়িতে ব্যবহৃত পুরোনো সব যন্ত্রপাতি। এখানে আছে দেশের রেলওয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য। আছে প্রাচীন সব জিনিসপত্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কমতি ছিল না দর্শনার্থীর। নতুন প্রজন্ম জানত রেলওয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস। কিন্তু জাদুঘরটি এক দশক ধরে বন্ধ। দরজার তালায় ধরেছে মরচে। ভিতরে বাসা বেঁধেছে কবুতর। বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন জরুরি-দুষ্প্রাপ্য উপকরণ। অযত্নে নষ্ট হচ্ছে ইতিহাসের অংশ। হারিয়ে যাওয়ার পথে প্রাচীন রেলের মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন সংবলিত যন্ত্রপাতি। জাদুঘর বন্ধ থাকায় এটি দেখতে এসে ফিরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। নতুন প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন রেলওয়ের ইতিহাস জানা থেকে।
অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন ধরে এটি বন্ধ থাকায় এখানকার চারপাশে এখন বখাটেদের আড্ডাখানা। পরিণত হয়েছে ছিনতাই, মাদক সেবন এবং নানা অনৈতিক কাজের আখড়ায়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর আমবাগানের শেখ রাসেল শিশুপার্কের পাহাড়ে রেলওয়ে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৬ সালে রেল কর্তৃপক্ষ জাদুঘরটি সংস্কার কাজ শুরু করে। কার্যত তখন থেকেই এটি বন্ধ আছে। জাদুঘরে আছে ৪২০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত কাঠের তৈরি নয়নাভিরাম দোতলা ভবন। এটি এক সময় রেলওয়ের বাংলো হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানেই করা হয়েছে রেলওয়ে জাদুঘর। এটির চারপাশে আছে সীমানা প্রাচীর আছে। তবে ভিতরে শুনসান নীরবতা। প্রতিটি কক্ষে আছে নানা ধরনের প্রাচীন জিনিস। এর মধ্যে আছে ব্র্রিটিশ আমলের রেলের কিছু দুর্লভ সংগ্রহ, রেললাইন (কাপড় দিয়ে ঢাকা), পাটাতন, ব্রিটিশ আমলে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সিগন্যাল বাতি, পুরোনো মনোগ্রাম, স্কেল, ভাল্ব, বার্তা প্রেরণ যন্ত্র, এনালগ টেলিফোন, নিড়ানি, ফায়ার বাকেট, ফ্যান, ঘড়ি, ট্রেইল ল্যাম্প, দুরবিন, স্টেশন মাস্টারের ক্যাপ, স্প্যাগ, হর্ন, পতাকা, ঘণ্টা, চেয়ার-টেবিল, ডায়নামোভ, গেট ল্যাম্প, সেই সময়ের দুর্লভ ছবি ও রেলওয়ের গার্ডদের ব্যবহার করা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। তবে নিচতলার এই তিন কক্ষে থাকা যন্ত্রপাতিগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। খসে পড়ছে দেয়ালের আস্তরণ। জাদুঘরের দোতলার সবকটি কক্ষই অন্ধকার। সেখানে বাসা বেঁধেছে শত শত কবুতর। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীন বলেন, জাদুঘরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। তবে এটি চালু করার জন্য আমরা একটা পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতোমধ্যে একজন স্থপতিকে ডিজাইন করার জন্য দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন করে আবারও সেটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।