গাজীপুরের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের জন্য তৈরি হয় দারুণ স্বাদের বাহারি খাবার। রান্নাঘরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লোভ সামলে রাখা কঠিন। একদিকে খাবারের যেমন স্বাদ, তেমনি লোভনীয় গন্ধ। মুসল্লিরা বলছেন, যারা এই খাবার খেয়েছেন, শুধু তারাই বুঝবেন এর স্বাদ কতটা। কয়েক হাজার বিদেশি মেহমানের জন্য প্রতিদিন তৈরি হয় ২০-২৫ আইটেমের নামিদামি খাবার। ইজতেমা কয়েক পর্বে ভাগ হয়ে যাওয়ায় অনেকদিন ধরে চলে এই রান্নার আয়োজনটি।
রাজধানীর সন্নিকটে কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের তীরে ৫৮ বছরের ঐতিহ্যে ঘেরা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। ১৬০ একর জায়গা বি¯ৃÍত আন্তর্জাতিক খ্যাতির এ ময়দানের ঐতিহ্য এখন সারা বিশ্বে। প্রতি বছর দেশি-বিদেশি লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকা। ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত এ ময়দানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিশ্ব তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অনেক দেশে এখনো বাংলাদেশকে না চিনলেও বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের কারণে টঙ্গীকে চিনে সারা বিশ্ব। সে সুবাদে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান দেশের মধ্যে অন্যতম স্থান। তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে তুরাগ নদের তীরে পরিত্যক্ত ওই ১৬০ একর জায়গা ইজতেমা ময়দানের নামে বরাদ্দ দিতে রাজউককে নির্দেশ দেয়। সেই থেকে এ জায়গাটি ইজতেমা ময়দানের নামে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিবছর এ ময়দানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলনে দেশি বিদেশি লাখ লাখ মুসল্লি যোগ দেয়।
ময়দানে আগত বিদেশি মেহমানদের জন্য তৈরি হয় বাহারি খাবার। প্রতিদিন কয়েক হাজার বিদেশি মুসল্লির জন্য রুটি, হালুয়া, গরুর পায়া, বুটের ডাল, কলিজা ভুনা, নাচ্চি, সাদা পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির ফ্রাই, সাদা সবজি, মাছ, মোরগ পোলাও, নান রুটি, খাসির মাংসসহ তৈরি হয় ২০-২৫ আইটেমের নামিদামি খাবার। এই খাবার তৈরি করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাবুর্চিরা। জান ও মাল নিয়ে ময়দানে এসে স্বেচ্ছায় রান্নার কাজে সময় দেন তাঁরা। ফরিদপুর থেকে আসা এক বাবুর্চি বকুল বিশ্বাস বলেন, জানমাল নিয়ে ময়দানে এসেছি, স্বেচ্ছায় কাজ করছি। আখেরি মোনাজাত শেষ হলে ফিরে যাব। এখানে এসে স্বেচ্ছায় কাজ করার উদ্দেশ্য, আল্লাহকে রাজি-খুশি করা, দ্বীনের জন্য মেহনত করা।